১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইয়ট থেকে ছোড়া আতশবাজিতে গ্রিসের দ্বীপে দাবানল, গ্রেপ্তার ১৩

শুষ্ক আবহাওয়া, জোরালো বাতাস ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে গ্রিসজুড়ে উচ্চ দাবানল সতর্কর্তা জারি রয়েছে।

ইয়ট থেকে ছোড়া আতশবাজিতে গ্রিসের দ্বীপে দাবানল, গ্রেপ্তার ১৩
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jun 2024, 11:54 AM

Updated : 26 Aug 2026, 09:50 AM

গ্রিসের দ্বীপ হাইড্রায় একটি দাবানল কাণ্ডের পর ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, একটি ইয়ট থেকে ছোড়া আতশবাজির কারণে ওই দাবানলের সূত্রপাত হয়েছিল। 

শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই দাবানলে হাইড্রা দ্বীপের একমাত্র পাইনবনটি ধ্বংস হয়ে গেছে। 

এখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও দাবানলটি দমকল কর্মীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। কারণ ওই বনের দিকে যাওয়ার মতো কোনো সড়ক নেই, ফলে দমকল কর্মীদের সাগরের মধ্য দিয়ে সেখানে যেতে হয় আর পানি ফেলার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হয়।   

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের দক্ষিণপশ্চিমে সারোনিক উপসাগরের দ্বীপ হাইড্রা বিদেশি পর্যটক ও ইয়ট ভ্রমণকারীদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য। 

হাইড্রার দমকল বাহিনী ফেইসবুকে বলেছে, “একটি ইয়ট থেকে ছোড়া আতশবাজির কারণে দাবানলটির সূত্রপাত হয় আর এটি দ্বীপের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত একমাত্র পাইনবনটিকে জ্বালিয়ে দিয়েছে।”

শনিবার এক বিবৃতিতে গ্রিসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ দাবানলের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ১৩ গ্রিক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার তাদের আদালতে হাজির করা হবে। 

এক কমর্কর্তা জানিয়েছেন, এই ১৩ জনকে এথেন্স উপকূলের ইয়ট জেটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

চলতি বছরের প্রথম তাপদাহের মধ্যেই গ্রিসের বেশ কয়েকটি এলাকায় দাবানল শুরু হয়েছে। দাবানলে পেলোপনিস উপদ্বীপের ইলিয়া অঞ্চলে শুক্রবার ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আতশবাজি থেকে আরেকটি দাবানলের ঘটনায় গ্রিসজুড়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের। 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রিসজুড়ে ৬৪টি বন ও জঙ্গলে দাবানল শুরু হয়েছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়া, জোরালো বাতাস ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে গ্রিসজুড়ে উচ্চ দাবানল সতর্কর্তা জারি করা হয়েছে। পুরো গ্রীষ্মজুড়ে এ ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

ভূমধ্যসাগরীয় দেশ গ্রিসে দাবানল নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু গ্রীষ্মকালগুলো ক্রমেই আরও উত্তপ্ত, শুষ্ক ও ঝটিকাপূর্ণ হয়ে ওঠায় দাবানলগুলো বেশি ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে মত বিজ্ঞানীদের।