Published : 29 Apr 2026, 10:13 AM
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি সংকট চলছে ও বিশ্ব অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠেছে তখন তেল উত্তোলক ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বের হয়ে যাওয়া তেল রপ্তানিকারী সংগঠনটির জন্য একটি বড় ধাক্কা।
শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পদক্ষেপে ‘ইউএইর দীর্ঘ মেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী এবং পরিবর্তনশীল জ্বালানি রূপরেখা’ প্রতিফলিত হয়েছে বলে মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “এই সংগঠনটিতে আমাদের সময়কালে আমরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছি আর সবার মঙ্গলের জন্য বড় ধরনের ছাড় দিয়েছি। এখন আমাদের জাতীয় স্বার্থে মনোযোগ দেওয়ার সময় হয়েছে।”
আল জাজিরা লিখেছে, দীর্ঘদিনের এই সদস্যকে হারানোর মধ্য দিয়ে ওপেক দুর্বল হয়ে পড়তে পারে ও সংগঠনটিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
দশকের পর দশক ধরে ওপেক ভূ-রাজনীতি থেকে শুরু করে উৎপাদন কোটা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ সত্ত্বেও সাধারণত একটা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
ইউএইয়ের জ্বালানিমন্ত্রী সুহাইল মোহাম্মদ আল-মাজরুই জানিয়েছেন, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর জ্বালানি কৌশল সতর্কভাবে পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওপেকের প্রভাবশালী সদস্য সৌদি আরবের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নে মাজরুই বলেছেন, ইউএই অন্য কোনো দেশের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেনি।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, “এটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত। উৎপাদনের স্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নীতিগুলো সতর্কভাবে পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
১৯৬৭ সালে আবু ধাবি আমিরাত যোগ দেওয়ার পর ১৯৭১ সালে পুরো সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেকের সদস্য হয়।
কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বাড়ানো শুরু করার পর ভিয়েনা ভিত্তিক ওপেক এর বাজার ক্ষমতা কিছুটা হারায়। আর ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে থাকায় ওপেকভুক্ত পারস্য উপসাগরীয় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দেশ তাদের তেল-গ্যাস রপ্তানি নিয়ে সমস্যায় পড়েছে।
ওপেকের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০১৫ সালে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য গঠিত জোটে যোগ দেয়। ডিসেম্বরে সৌদি আরব ইয়েমেনের ইউএই সমর্থিত বিদ্রোহীদের জন্য পাঠানো অস্ত্রবাহী জাহাজে বোমাবর্ষণ করার পর এই জোট ভেঙে যায়।
জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্থা এনার্জি বলেছে, ইউএইর সরে যাওয়া তেল উৎপাদনকারীদের সংগঠনটির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
রিস্থা এনার্জির ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হোর্হে লিওন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “দৈনিক ৪৮ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের সক্ষমতা সম্পন্ন এবং আরও বেশি উৎপাদনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা এক সদস্যকে হারানোটা সংগঠনটির হাত থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার খোয়া যাওয়ার মতো।
“এতে দাম স্থিতিশীল রাখার গুরুদায়িত্ব এখন সৌদি আরবের ওপরই বেশি এসে পড়বে। বাজার তার অবশিষ্ট অল্প কয়েকটি চাপ সামলানো পক্ষের মধ্যে একটিকে হারাল।”
আরও পড়ুন: ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত