Published : 28 Nov 2024, 12:35 PM
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এক সমর্থককে নামাজরত অবস্থায় কন্টেইনারের ওপর থেকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে চলা বিক্ষোভের সময় ওই ব্যাক্তি কন্টেইনারের ওপর নামাজ পড়ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করছেন দলটির সদস্যরা।
ইমরান খানের দলের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘নৃশংসতা’ চালিয়েছে পুলিশ। তাদের বর্বরতার বেশ কয়েকটি উদাহরণের মধ্যে এটি ‘সবচেয়ে ন্যক্কারজনক’।
পিটিআই এক বিবৃতিতে বলেছে, “ওই ব্যক্তি যখন একটি কন্টেইনারের উপরে নামাজ পড়ছিলেন, তখন সশস্ত্র কর্মকর্তারা তার দিকে এগিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে তাকে তিন তলার সমান উঁচু ওই কন্টেইনারের ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।”
বিবিসি লিখেছে, মঙ্গলবার ইসলামাবাদের জিন্নাহ এবং আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ে ঘটনাটি ঘটে। তবে ওই ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আধাসামরিক বাহিনী পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের চিহ্ন সম্বলিত অস্ত্র বহনকারী কর্মকর্তারা কন্টেইনারের ওপর হাঁটু গেড়ে বসা এক ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার গেটি ইমেজেসের পোস্ট করা একটি ছবি এবং ঠিক একই স্থানের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় দেখা যায়। ভিডিও আর ছবির সাদৃশ্য থেকেই ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়েছে বলে লিখেছে বিবিসি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে বিবিসি।
বিবিসি জানিয়েছে, রোববার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের মধ্যে সংঘর্ষে চার নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুই বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ইমরান খানের হাজার হাজার সমর্থক তাদের নেতার মুক্তির দাবিতে মধ্য ইসলামাবাদে মিছিল করে। বেশ কয়েকটি ফৌজদারি অভিযোগে কারাগারে থাকা ইমরান খান মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত রাজধানী না ছাড়াও ঘোষণা দেয় তারা।
তবে পরে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক দমন পীড়নের মুখে ইসলামাবাদের বিক্ষোভ থেকে সরে যায় পিটিআই।
বুধবার পিটিআইয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকারের বর্বরতার’ কারণে বিক্ষোভ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
দলটির অভিযোগ, পাকিস্তানের সরকারি বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর 'সহিংস হামলা চালিয়েছে'। এমনকি নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে সরাসরি গুলি ছুড়েছে তারা।
পিটিআইয়ের দাবি, হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন কর্মী নিহত হয়েছেন। তারা এসব হত্যার তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ শতাধিক পিটিআই সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার ইমরান সমর্থকরা রাজধানীর ডি চক নামে পরিচিত রেড জোনে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও সূর্যাস্তের আগেই কর্তৃপক্ষ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ওই রেড জোনে আছে পার্লামেন্ট ভবন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, দূতাবাস এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয়।
তাই সংঘর্ষ এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করেছিল প্রশাসন। কিন্তু হাজার হাজার সমর্থক লক ডাউন উপেক্ষা করেই ডি চকে ঢুকে পড়ে।
সেখানে দফায় দফায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। কাঁদুনে গ্যাসের শেল ও গুলিবর্ষণের পরও রাজপথ দখল রাখে পিটিআই কর্মীরা। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
বিভিন্ন অভিযোগে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। মামলা মোকাদ্দমায় থাকলেও তার জনপ্রিয়তা এখনো তুঙ্গে।
তার স্ত্রী বুশরা বিবি সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ইমরানের মুক্তি মেলা না পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
পিটিআইয়ের পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে চারটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে আছে ইমরান খানসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি; সংবিধানের ২৬তম সংশোধনী বাতিল; গণতন্ত্র ও সংবিধান পুনরুদ্ধার এবং ‘চুরি যাওয়া’ ম্যান্ডেট ফিরিয়ে দেওয়া।