Published : 16 May 2026, 11:49 AM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তিন দশক আগের এক ঘটনায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
বুধবার মিয়ামিতে ফেডারেল কৌঁসুলিরা এ অভিযোগপত্রটি সামনে আনবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন ওই কর্মকর্তা।
ক্যারিবীয় দ্বীপ দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন রাউলের বিরুদ্ধে এ মামলার পথে হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৯৬ সালে কিউবার যুদ্ধবিমান নির্বাসিত কিউবানদের একটি দলের পরিচালিত দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছিল। সেসময় রাউল কাস্ত্রো ছিলেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
অভিযোগপত্রটি সামনে আনার দিন ফেডারেল কৌঁসুলিদের কার্যালয়ে তিন দশক আগের ওই ঘটনায় নিহতদের স্মরণে একটি অনুষ্ঠানও হবে; অনুষ্ঠানটির আমন্ত্রণপত্র দেখতে পেয়েছে রয়টার্স।
এ প্রসঙ্গে তারা ওই কার্যালয়ের মন্তব্য চেয়ে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পায়নি।
অভিযোগপত্র দাখিলে আগে একজন গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদন লাগবে। যুক্তরাষ্ট্র যে রাউলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তা প্রথম জানায় মিয়ামি হেরাল্ড।
রাউলের ভাই কিংবদন্তি কমিউনিস্ট বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোও কিউবার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এ দুই ভাই এবং তাদের দল ও সরকারকে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র শত্রু বিবেচনা করে আসছে।
২০১৮ সালে রাউল কিউবার প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দেন, তিনি ২০২১ সালে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব থেকেও সরে দাঁড়ান।
নির্বাসিত কিউবানদের বিমান ভূপাতিত করার ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র নিন্দা জানিয়েছিল, দিয়েছিল নিষেধাজ্ঞাও। তবে রাউল বা ফিদেলের বিরুদ্ধেই কখনোই ফৌজদারি অভিযোগ আনেনি।
মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় ২০০৩ সালে কিউবার তিন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও তাদেরকে কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি।
হাভানার ওপর চাপ
এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র রাউলের বিরুদ্ধে মামলার পথে হাঁটছে যখন ওয়াশিংটনের আরোপ করা তেল অবরোধকে ঘিরে কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা তুঙ্গে।
ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার এখনকার কমিউনিস্ট সরকারকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য’ অভিহিত করেছে, তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জোর চেষ্টাও চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ বছরের শুরুর দিকে কিউবার ওপর তেল অবরোধ দিয়ে বলেছিলেন, কোনো দেশ এ অবরোধ ভেঙে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটিতে তেল পাঠালে তাদের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হবে।
তার এ পদক্ষেপ কিউবার জ্বালানি সঙ্কট তীব্র করেছে। এর ধাক্কায় দেশটিতে তুমুল লোডশেডিং চলছে। কয়েক দশক ধরে মার্কিন নানা অবরোধে কমিউনিস্ট পার্টি-শাসিত দেশটির অর্থনীতি এমনিতেই বিপর্যস্ত। জ্বালানি সঙ্কটের কারণে দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিচ্ছিন্ন কিছু বিক্ষোভও হয়েছে।
ট্রাম্পের বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার হাভানায় বিরল এক সফরে গিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএ’র প্রধান জন র্যাটক্লিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তখনই আলোচনায় জড়াবে যখন ‘তারা মৌলিক পরিবর্তন আনবে’।
রাউলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আনার পরিকল্পনার খবরে কিউবার জনগণের ভেতর নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে আরেক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। ওয়াশিংটন এখন ভেনেজুয়েলা কাণ্ডের মতো কিউবায় আচমকা সামরিক অভিযান চালিয়ে বসতে পারে বলেও দ্বীপদেশটির অনেকের আশঙ্কা।
জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হঠাৎ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে দেশটির তৎকালীণ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে এবং তাকে মাদক পাচার সংক্রান্ত মামলায় মার্কিন আদালতে বিচারের মুখোমুখি করে। মাদুরো শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন।
মার্চে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ও ইরানের পর কিউবাই তার ‘পরবর্তী লক্ষ্য’ বলে জানিয়েছিলেন।
মিয়ামির যে শীর্ষ কৌঁসুলি রাউলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আনার নেতৃত্বে আছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, সেই হেসন রেডিং কিনোনেস ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে সুপরিচিত। তিনি ট্রাম্পবিরোধী খ্যাত সিআইএর সাবেক পরিচালক জন ব্রেনানের বিরুদ্ধে তদন্তও তদারক করছেন।
এর পাশাপাশি কিনোনেস আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেসব তদন্ত হয়েছিল, তা কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।