Published : 15 Mar 2026, 11:08 AM
ড্রোনের আঘাতে আগুন ধরে যাওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ রাজ্যে কিছু তেল লোডিংয়ের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেলশিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক একাধিক সূত্র।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টার্মিনাল ও জাহাজে জ্বালানি ভরার কেন্দ্র ফুজাইরাহ’তে শনিবার এ ড্রোন হামলা হয়।
ইরানের তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্ক দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ফুজাইরাহ’তে এই তেল লোডিং কার্যক্রম বন্ধ হয়। খার্ক দ্বীপে হামলার পর ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছিল, বন্দর, ঘাট ও সামরিক স্থাপনাসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব কিছুই এখন তাদের ‘বৈধ নিশানা’।
হরমুজ প্রণালির বাইরে থাকা ফুজাইরাহ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল আরব আমিরাতি ‘মারবান’ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়, যা বিশ্বের মোট চাহিদার ১ শতাংশের কাছাকাছি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এক প্রত্যক্ষদর্শী ফুজাইরাহ’র তেল টার্মিনাল থেকে আলাদা আলাদা দুই স্তম্ভে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। এই ঘটনা তেল লোডিংয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানতে পারেনি রয়টার্স।
মধ্যরাতের পর ফুজাইরাহ’র মিডিয়া কার্যালয় জানায়, রাজ্য কর্তৃপক্ষ আগুন নেভাতে এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আগুনের কারণে জর্ডানের এক নাগরিক সামান্য আহত হয়েছেন।
“ক্রমশ বিস্তৃত হওয়া সংঘাতে কোথাও যে কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই সেই বার্তা পাঠাচ্ছে আইআরজিসি। খার্ক দ্বীপে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা পর এই হামলায় যে সঙ্কেত মিলছে তা হল, সংঘাতের গতিপ্রকৃতি ওয়াশিংটনের হাতে যেতে দেবে না তারা, যুক্তরাষ্ট্রকে আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়ারও সুযোগ দেবে না,” বলেছেন আরবিসি ক্যাপিটালের বিশ্লেষক হালিমা ক্রফট।
দিনকয়েক আগেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বলেছিল, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা শুরুর পর ইরান উপকূলের কাছে অবস্থিত জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ তেল সরবরাহ সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক উৎপাদক তেল উত্তোলন কমাতেও বাধ্য হয়েছে।
শনিবার ইরান আরব আমিরাতের আরও বন্দরে হামলার হুমকি দিয়েছে, ফুজাইরাহ’র পাশাপাশি দু্বাইয়ের জেবেল আলি বন্দর ও আবু ধাবির খলিফা বন্দরের কাছাকাছি থাকা বাসিন্দাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলেছে বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তা সংস্থাগুলো।
ইরান বলছে, তাদের খার্ক দ্বীপে হামলা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতর দিয়েই হয়েছে। তেহরানের এ অভিযোগ নিয়ে রয়টার্স মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে সাড়া মেলেনি।
চাপে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো
ধেয়ে আসা একটি ড্রোনকে প্রতিহত করতে দিয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে ফুজাইরাহতে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে রাজ্যটির মিডিয়া কার্যালয় জানিয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী কাজ করছে, বলেছে তারা।
তেল লোডিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ প্রসঙ্গে দেশটির কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি। মন্তব্য চেয়ে যোগাযোগ করলেও আবু ধাবি রাজ্যের সুবিশাল তেল কোম্পানি অ্যাডনক তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার অ্যাডনক এক ড্রোন হামলায় রুওয়াইজ পরিশোধনাগারের অভ্যন্তরে একটি স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনায় ওই পরিশোধনারের কাজই বন্ধ করে দেয় বলে পরিস্থিতি সম্বন্ধে জানা একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে।
ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে জ্বালানি স্থাপনাগুলোর কার্যক্রমে যে ব্যাঘাত ঘটছে, রুওয়াইজ বন্ধ হওয়ায় তা আরও বিস্তৃত হয়েছে।