Published : 23 Jun 2026, 05:47 PM
রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভের সময় কয়েকজন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
হামলাকারীদের ‘উগ্র, অসহিষ্ণু’ আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি বলছে, তারা দেশকে একটি উগ্র, অসহিষ্ণু ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে ঠেলে দিতে চায়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় বিক্ষোভ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ শেষে তারা সেখানে এক সাংবাদিককে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। হামলার শিকার মাহফুজুর রহমান শিশির দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
হামলায় আহত হন দ্য নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেনও। এছাড়া অন্তত ১০ জন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওই ঘটনার কথা তুলে ধরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো যে কোনো স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের পরিপন্থি।
“জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য দিবালোকে কর্তব্যরত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির, রাব্বী সিদ্দিকী ও আব্দুর রহমান ইশানসহ প্রায় ২৫ জন সংবাদকর্মীর ওপর যেভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ ও লাঞ্ছনা চালিয়েছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, তারা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না এবং দেশকে একটি উগ্র, অসহিষ্ণু ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে ঠেলে দিতে চায়।”
ছাত্রদল বলছে, “পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এই হামলার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী অপশক্তি এখনো বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতায় ন্যূনতম বিশ্বাস রাখে না। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে সাংবাদিকদের ওপর এমন সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয় যায় না।
“জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময়ই গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা এবং সংবাদমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। অতীতেও ছাত্রদল মুক্ত গণমাধ্যমের পক্ষে আপসহীন ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও যে কোনো উগ্র ও ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।”
ছাত্রদল নেতারা অবিলম্বে ধানমণ্ডি ৩২ এলাকায় গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
একইসঙ্গে আহত সব গণমাধ্যমকর্মীর আশু সুস্থতা কামনাসহ তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতেও আহ্বান করেছে সংগঠনটি।
পুরনো খবর-