Published : 26 Jan 2026, 11:34 PM
অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে অ্যালেক্স প্রেটির মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ আরও জোরালো হওয়া এবং শহর থেকে অভিবাসন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জোরাল হওয়ার মধ্যেই সেখানে জরুরি ভিত্তিতে ‘সীমান্ত সম্রাট’ টম হোম্যানকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এই পদক্ষেপকে মিনেসোটায় বাড়তে থাকা সংকটের মধ্যে এক মোড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসাবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, “আমি আজ রাতে হোম্যানকে মিনেসোটায় পাঠাচ্ছি। তিনি সেখানে কাজে ছিলেন না। তবে তিনি কাজ জানেন এবং ওই এলাকায় বহু মানুষকে পছন্দ করেন। তিনি কঠোর, কিন্তু ন্যায়পরায়ন। তিনি সরাসরি আমার কাছে খবর পৌঁছে দেবেন।”
৬২ বছর বয়সি হোম্যান আগে পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অভিবাসন কর্মকর্তাও ছিলেন। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসাবে কাজ করেছিলেন তিনি।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি অবৈধ অভিবাসী দমনাভিযানের কমান্ডার হিসাবে টম হোম্যানকে নিযুক্ত করেন। দেশের সব দিকের সীমান্ত দেখাশোনার দায়িত্বও দেওয়া হয় তাকে।
এবার মিনেসোটায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে হোম্যানকে পাঠানোর ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প সেখানে প্রশাসনের উপস্থিতি বাড়াতে চাইছেন নাকি পিছু হঠতে চাইছেন তা স্পষ্ট নয়।
তবে রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, “তার প্রশাসন সব কিছু পর্যালোচনা করে দেখছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।”
তিনি এও বলেন যে “আমরা এক পর্যায়ে সরে আসব। আর ফেডারেল এজেন্টরা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।”
ট্রাম্পের এই কথা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, টম হোম্যান মিনেসোটায় মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন এবং ট্রাম্পকে সে সম্পর্কে জানাবেন। এরপরই কোনও পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।”
গত সপ্তাহান্তে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে মিনিয়াপোলিসে দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক প্রেটি নিহতের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
মিনেসোটায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধের একটি আবেদন সোমবার বিবেচনা করার কথা রয়েছে এক মার্কিন বিচারকের।
মিনেসোটা রাজ্য এবং মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল শহর কর্তৃপক্ষ আদালতের কাছে ৩,০০০ অভিবাসন এজেন্টের (আইসিই) এই অভিযান স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছে।
তারা একে রাজ্যের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন আদালতকে জানিয়েছে যে, এই আবেদন অর্থহীন, এর ফলে ফেডারেল আইন গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে।
গত শনিবার মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে এক সংঘর্ষের সময় অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী নার্স অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, প্রেটি হাতবন্দুক নিয়ে এগিয়ে আসায় এজেন্টরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছিলেন।
তবে রয়টার্স এর যাচাই করা ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেটির হাতে পিস্তল নয় বরং একটি ফোন ছিল। এজেন্টরা তাকে মাটিতে আছড়ে ফেলার পর গুলি করেন।
ব্যবসায়িক মহলে উদ্বেগ ও জনমত তীব্র শীত ও হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রার মধ্যেও এই অভিযানের প্রতিবাদে রাজপথে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে।
ডেমোক্র্যাট নেতাদের পাশাপাশি টার্গেট, ৩এম এবং ইউনাইটেড হেলথের মতো মিনেসোটার বড় ৬০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবিলম্বে এই উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের নিজস্ব রিপাবলিকান সমর্থকদের ৩৯ শতাংশই এখন মনে করছেন যে, অভিবাসন সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা কম হলেও সাধারণ মানুষের ক্ষতি এড়ানো উচিত।