পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২ হামাস সদস্য নিহত
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েই চলেছে।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের দুই জ্যেষ্ঠ সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার তাদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। তারা এক ইসরায়েলির হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি ইহুদী রাষ্ট্রটির।
ইসরায়েল নিরাপত্তা সংস্থা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ বিবৃতিতে নিহতদের আহমেদ আবু আরা ও রাফেত দাওয়াসি বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা দু’জনেই পশ্চিম তীরের জেনিন শহর সংলগ্ন উত্তরাঞ্চলীয় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
এক বিবৃতিতে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় জেনিনে দুই যোদ্ধা নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করছে তারা।
নিজেদের বিবৃতিতে ইসরায়েল বলেছে, গত সপ্তাহে পশ্চিম তীরের জর্ডান উপত্যকায় বন্দুক হামলায় জোনাথন ডয়চে নামের এক ইসরায়েলি প্রাণ হারান। এই হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে নিহত দুই হামাস সদস্য জড়িত ছিলেন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, গত ১১ অগাস্ট অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি প্রধান সড়কে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীরা গুলি শুরু করলে একজনের মৃত্যু হয়, আহত হয় আরেকজন।
ওইদিন ঘটনার পরে আল-কাসাম ব্রিগেড বলেছিল, তাদের পশ্চিম তীরভিত্তিক যোদ্ধারা জর্ডান উপত্যকার মেহোলা এলাকায় খুব কাছ থেকে গুলি করে এক ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার পর ‘নিরাপদে তাদের ঘাঁটিতে’ ফিরেছে।
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়া গাজা সিটির একটি স্কুলে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বদলা হিসেবে জর্ডান উপত্যাকায় ওই বন্দুক হামলা চালানো হয় বলে জানায় তারা।
ফিলিস্তিনের দমকল বাহিনী জানিয়েছে, গাজা সিটির ওই স্কুলে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছে।
গত অক্টোবরে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়ে গেছে। এখন সেখানে ঘন ঘন ইসরায়েলি অভিযান, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারী ইহুদিদের সহিংসতা আর এসবের পাল্টায় রাস্তায় ফিলিস্তিনিদের হামলার চেষ্টা বেড়ে চলেছে।
বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের কালকিলিয়া শহরের কাছে একটি গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত এক ফিলিস্তিনির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, ১০ মাস ধরে চলা গাজা যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে দোহায় আলোচনা ফের শুরু হওয়ার আগে পশ্চিম তীরে এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটল।
গাজা যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে ইরান এবং ইরান সমর্থিত লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথিরা জড়িয়ে পড়ে বৃহত্তর এক আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা ঘটতে পারে, এমন এক সম্ভাবনা দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
