Published : 25 Nov 2025, 10:16 PM
মৃত ভেবে এক নারীকে দাহ করার আগে কফিনের ভেতর থেকে আসা টোকার শব্দে সচকিত হয়ে ওঠেন থাইল্যান্ডের এক বৌদ্ধ মন্দিরের কর্মীরা। পরে কফিন খুলে ওই নারীকে জীবিত পাওয়া যায়।
ব্যাংককের শহরতলিতে ওয়াত রাত প্রাখং থাম মন্দিরে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
মন্দিরটির মহাব্যবস্থাপক পাইরাত সুদথুপ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, কফিনের ভেতর থেকে টোকার শব্দ শুনে তিনি ‘হতভম্ভ হয়ে পড়েছিলেন’। এরপর তিনি ওই কফিনটি খুলতে বলেন।
কফিন খোলার পর দেখতে পান, ‘সামান্য চোখ খোলা’ ওই নারী কফিনের এক পাশে টোকা দিয়ে যাচ্ছেন।
“তিনি সম্ভবত বেশ কিছুক্ষণ ধরেই টোকা দিয়ে যাচ্ছিলেন,” বলেন সুদথুপ।
৬৫ বছর বয়সী ওই নারীর ভাই বলছেন, স্থানীয় কর্মকর্তারা তার বোন মারা গেছে বলে তাকে বলেছিল।
তবে মন্দিরের ব্যবস্থাপক বলেছেন, নারীটির ভাইয়ের কাছে কোনো ‘মৃত্যু সনদ’ ছিল না।
কীভাবে এই সনদ পাওয়া যাবে সুদথুপ যখন ওই নারীর ভাইকে তা বোঝাচ্ছিলেন সেসময়ই মন্দিরের কর্মীরা ওই কফিনের ভেতর থেকে টোকার শব্দ শুনতে পান।
নারীটি জীবিত বলে নিশ্চিত হওয়ার পর মন্দিরপ্রধান তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।
পরে এক চিকিৎসক ওই নারীর গুরুতর হাইপোগ্লাইসেমিয়া থাকার কথা নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকখানি কমে যায়।
গুরুতর হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলেও তার হৃদযন্ত্র কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাস কখনো বন্ধ হয়নি, বলেছেন ওই চিকিৎসক।
ওই নারীটির ছোট ভাই মন্দিরের ব্যবস্থাপককে বলেছেন, তার বোন গত দুই বছর ধরেই বিছানায় শোয়া। পরে তার শারীরিক অবস্থার এমন অবনতি ঘটে যে শনিবার তার শ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছিল।
দাহ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফিতসানুলোক প্রদেশ থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ওই পরিবারের সদস্যরা ব্যাংককে এসেছিলেন।
এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ওই নারী তার মৃতদেহ ব্যাংককের একটি হাসপাতালে আগেই দান করে দিয়েছিলেন। সে কারণেই বোনের কফিন নিয়ে এতদূর যান ভাই।
কিন্তু ‘মৃত্যু সনদ’ না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই কফিন নিতে রাজি হয়নি।
ওয়াত রাত প্রাখং থাম মন্দিরে বিনামূল্যে দাহ করার ব্যবস্থা থাকায় এরপর রোববার তারা কফিন নিয়ে সেখানে যান। কিন্তু সেখানেও বাধ সাধে ওই ‘মৃত্যু সনদ’।
শেষপর্যন্ত টোকার জোরে ওই কফিন থেকে বের হতে পারেন নারীটি।