যুক্তরাষ্ট্র স্পেনকে বহিষ্কার করতে পারবে কিনা জানাল নেটো
নেটো জোটের কোনও দেশের সদস্যপদ স্থগিত করা বা দেশটিকে বহিষ্কার করার কোনও বিধান নেই বলে জানিয়েছেন এক নেটো কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্র স্পেনকে পশ্চিমা সামরিক জোট নেটো থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা বহিস্কার করতে পারে- এমন খবরের প্রেক্ষাপটে এবার বিষয়টি পরিস্কার করে জানালেন এক নেটো কর্মকর্তা।
বিবিসি-কে ওই নেটো কর্মকর্তা বলেন, জোটের কোনও দেশের সদস্যপদ স্থগিত করা বা দেশটিকে বহিষ্কার করার কোনও বিধান নেই।
শুক্রবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীন ইমেইলে ইরান যুদ্ধে ওয়াশিংটনকে সমর্থন দিতে ব্যর্থ হওয়া নেটো মিত্রদের শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ওই ইমেইলে স্পেনকে জোট থেকে বহিস্কার করা এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের দাবির বিষয়ে মার্কিন সমর্থন পুনর্বিবেচনার মতো নানা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে নেটোর ওই কর্মকর্তা বিবিসি-কে বলেন, জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কারের কোনও বিধান রাখা হয়নি।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও পেন্টাগনের প্রস্তাব নিয়ে প্রকাশিত খবরকে গুরুত্ব দেননি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা কোনো ইমেইলের ওপর ভিত্তি করে কাজ করি না। আমরা দাপ্তরিক নথিপত্র এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের ভিত্তিতে কাজ করি।”
সানচেজ আরও বেলেন, স্পেন মিত্রদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতায় বিশ্বাসী, তবে তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে হতে হবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই নেটো মিত্রদের ভূমিকার সমালোচনা করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার পর ট্রাম্প মিত্রদের ওপর আরও ক্ষুব্ধ হন।
স্পেন তাদের ভূখণ্ডে থাকা বিমান ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেনে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে— নেভাল স্টেশন রোটা এবং মোরন এয়ার বেস।
ও্দিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধে বা ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধে আরও বেশি জড়িয়ে পড়া ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি। তবে ব্রিটেন তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি লক্ষ্য করে চালানো ইরানি অবস্থানে হামলার অনুমতি দিয়েছে এবং ব্রিটিশ বিমান বাহিনী ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার অভিযানে অংশ নিয়েছে।
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জানিয়েছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে সহায়তা করতে ইচ্ছুক।
গত মাসে ট্রাম্প নেটো-কে একটি ‘একতরফা রাস্তা’ হিসেবে অভিহিত করে লিখেছিলেন, “আমরা তাদের রক্ষা করব, কিন্তু তারা আমাদের জন্য কিছুই করবে না।”
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীন ইমেইলে বলা হয়েছে, আকাশপথ ও ঘাঁটি ব্যবহারের সুবিধা (অ্যাক্সেস, বেস ও ওভারফ্লাইট বা এবিও)- দেওয়া নেটো সদস্য হওয়ার জন্য ‘চূড়ান্ত ভিত্তিমূল’ বা ‘অবশ্যিক সর্বনিম্ন মানদণ্ড’।
এই সহযোগিতা না করার সাজা হিসেবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর ‘সাম্রাজ্যবাদী অধিকারে’র বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটিশ সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল হলেও আর্জেন্টিনা একে নিজেদের দাবি করে। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপ নিয়ে দুই দেশ যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। আর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক অবস্থান হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের দাবির প্রতি সমর্থন।
রয়টার্সের সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নেটো মিত্রদের জন্য সবকিছু করলেও প্রয়োজনে তারা পাশে ছিল না।
তিনি বলেন, “প্রতিরক্ষা দপ্তর নিশ্চিত করবে যেন প্রেসিডেন্টের কাছে নির্ভরযোগ্য বিকল্প থাকে, যাতে আমাদের মিত্ররা আর কাগুজে বাঘ না হয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে।”
