Published : 05 Apr 2026, 04:51 PM
কুয়েত বলেছে, ইরানি ড্রোন হামলায় তাদের দুটি বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে গেছে।
এসব হামলায় কেউ হতাহত হয়নি বলেও দাবি করেছে তারা।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তেহরান যে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তাতে উপসাগরের দেশগুলোকেও ব্যাপক ভুগতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফাতিমা আব্বাস জোহার হায়াত রোববার বলেন, রাতে ‘অপরাধমূলক আগ্রাসনের’ ফলে দুটি কেন্দ্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে কুয়েতের বেসামরিক অবকাঠামোতে এটাই সর্বশেষ হামলার ঘটনা। রাতে আরও ড্রোন হামলায় শুয়াইখ তেল স্থাপনায় আগুন ধরে গেছে এবং একটি একটি সরকারি কার্যালয় প্রাঙ্গণের ‘ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে, বলেছেন তিনি।
কুয়েত শহর থেকে খবর পাঠানো আল জাজিরার সাংবাদিক মালিকা ত্রাইনা পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার ঘটনাকে ‘সর্বনাশা সংবাদ’ আখ্যা দিয়েছেন।
“কুয়েতে এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে পানি লবণমুক্ত করণ বা বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কুয়েতের ৯০ শতাংশের মতো খাবার পানি এসব বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র থেকে আসে,” বলেছেন তিনি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি কুয়েতও ধারাবাহিক ইরানি হামলার মুখোমুখি হচ্ছে, বলেছেন দোহা থেকে খবর পাঠানো আল জাজিরার সাংবাদিক ভিক্টোরিয়া গাটেনবি।
“ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা বাড়ানো নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাদের হুমকিগুলোকে যদি বাস্তবে রূপ দেন তাহলে ইরানও উপসাগরের বিভিন্ন দেশে একই ধরনের স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে,” বলেছেন তিনি।
বাহরাইনও রোববার ইরানি হামলার কবলে পড়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি বাপকো এনার্জিস জানিয়েছে, ইরানি এক হামলায় তাদের এক সংরক্ষণাগারে একটি তেলের ট্যাংকে আগুন ধরে যায়, অবশ্য তা খুব দ্রুতই নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি; ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বলেছে তারা।
এর আগে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগুন লাগার খবর দিলেও ঠিক কোথায় আগুন লেগেছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেনি তারা।
“ইরানি আগ্রাসনের ফলে একটি স্থাপনায় সৃষ্ট আগুন বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের ক্রু’রা নিভিয়ে ফেলেছে,” বলেছিল তারা।
আকাশপথে হামলা হতে যাচ্ছে এমন সতর্ক সঙ্কেত বাজার এক ঘণ্টার পর বাইরাইনের সরকার এ কথা জানায়।
পার্শ্ববর্তী আবু ধাবির কর্তৃপক্ষও রোববার জানায়, আকাশপথে হামলা প্রতিহতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের ধ্বংসাবশেষে তাদের বরুজ পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় একাধিক স্থানে আগুন লাগার পর জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।
“ওই কারখানার কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত সেটি বন্ধ থাকবে,” বলা হয়েছে আবু ধাবি মিডিয়া কার্যালয়ের বিবৃতিতে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও নিহত বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, বলেছে তারা।
রোববার সৌদি আরবও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে রিয়াদ।