Published : 16 Apr 2026, 05:05 PM
হরমুজ প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এই পথ দিয়ে জাহাজগুলো যাতে হামলার কোনও ঝুঁকি ছাড়াই চলাচল করতে পারে- এমন ব্যবস্থা বিবেচনা করে দেখতে পারে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে তেহরান এই প্রস্তাব দিয়েছে বলে আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র নিশ্চিত করে জানিয়েছে।
তবে এই প্রস্তাবটি কার্যকর হওয়া নির্ভর করছে সংঘাত এড়াতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে বর্তমানে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েকশ ট্যাংকার এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এখনও জটিলতা কাটেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি জানায়, ইরান নিজেদের জলসীমার পরিবর্তে সংকীর্ণ এই প্রণালির ওমানি জলসীমা দিয়ে জাহাজগুলোকে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দিতে রাজি হতে পারে।
তবে ইরান এই পথে পেতে রাখা মাইনগুলো সরাবে কি না অথবা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোও এই সুবিধা পাবে কি না, সে বিষয়ে সূত্রটি কিছু জানায়নি।
সূত্র জানায়, এই প্রস্তাব কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দাবিগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত কি না তার ওপর। হরমুজ প্রণালি সংকট নিয়ে কোনওরকম সমাধানের ক্ষেত্রে এটিই মূল শর্ত।
হোয়াইট হাউজ বা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
তবে পশ্চিমা একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ওমানি জলসীমা ব্যবহারের এই প্রস্তাবটি নিয়ে আগে থেকেই কাজ চলছিল, যদিও ওয়াশিংটন এখনও এর কোনো জবাব দেয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রস্তাবটি তেহরানের আগের আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে সরে আসার একটি ইঙ্গিত।
এর আগে ইরান এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল আরোপ এবং প্রণালির ওপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার হুমকি দিচ্ছিল।
লন্ডনে চলমান আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) বৈঠকে সদস্য দেশগুলো ইরানের টোল আরোপের পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে।
১৯৬৮ সালে জাতিসংঘের নৌ-সংস্থা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্মতিতে একটি দ্বিমুখী ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম গ্রহণ করা হয়েছিল,
যা ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে জাহাজ চলাচলের পৃথক করিডোর তৈরি করেছিল। ইরানের বর্তমান প্রস্তাবটি সেই কয়েক দশকের পুরনো অবস্থায় ফেরার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে গত সোমবার ইরান থেকে তেলবাহী জাহাজের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সার্বকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে আছে।