Published : 14 Sep 2025, 03:26 PM
চীনের সামরিক বাহিনী রোববার জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ চীন সাগরে নিয়মিত টহল পরিচালনা করেছে এবং কোনো ধরনের উস্কানির বিরুদ্ধে ফিলিপিন্সকে সতর্ক করেছে।
রয়টার্স লিখেছে, ওই কৌশলগত জলপথে এই দুই দেশ দীর্ঘ দিন ধরে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধে লিপ্ত আছে আর তাদের কোস্টগার্ডের জাহাজগুলো নিয়মিত সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। পাশাপাশি তারা ব্যাপক নৌ মহড়ার মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছে।
চীনের সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ডের এক মুখপাত্র বলেছেন, ফিলিপিন্সকে অবশ্যই দক্ষিণ চীন সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও উস্কানিমূলক ঘটনাগুলো অবিলম্বে থামাতে হবে।
ওই মুখপাত্র বলেন, “আমরা ফিলিপাইন পক্ষকে দক্ষিণ চীন সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও উস্কানিমূলক ঘটনাগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য এবং এ ধরনের প্রচেষ্টায় সমর্থন দেওয়ার জন্য বহিরাগত শক্তিগুলোকে নিয়ে আসার বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করছি। এসব প্রচেষ্টায় কোনো ফল হবে না।
“সমস্যা সৃষ্টি করার অথবা পরিস্থিতিকে বিঘ্নিত করার কোনো প্রচেষ্টা সফল হবে না।”
রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের সামরিক বাহিনীর এ বিবৃতির বিষয়ে ফিলিপিন্সের সমুদ্র বিষয়ক কাউন্সিল বা সশস্ত্র বাহিনী দাপ্তরিক সময়ের পরে কোনো প্রশ্নে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে বেইজিংয়ের ফিলিপাইন দূতাবাসও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাপান, ফিলিপিন্স ও যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ফিলিপিন্সের একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ নৌ মহড়া পরিচালনা করেছে। একটি মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমর্থনে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা শক্তিশালী করতে মহড়াটি চালানো হয়।
বিবৃতিতে তারা বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্র, আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রে জাহাজ চলাচল ও আকাশে ফ্লাইট চলাচলের স্বাধীনতা এবং সাগর ও আন্তর্জাতিক আকাশ সীমার অন্যান্য আইনসম্মত ব্যবহার বজায় রাখতে চায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সামুদ্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে চায়।”
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করে বলেছেন, দক্ষিণ চীন সাগরে একটি বিরোধপূর্ণ প্রবাল দ্বীপপুঞ্জের জন্য ‘অস্থিতিশীল পরিকল্পনা’ নিয়ে এগোচ্ছে। তিনি তার বর্ণিত ‘চীনের এ পরিকল্পনা’ প্রত্যাখ্যান করে ফিলিপিন্সের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
দক্ষিণ চীন সাগরের জলপথে বার্ষিক তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বিশ্ব বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। চীন এই সাগরের প্রায় পুরোটার মালিকানা দাবি করে আসছে। এই নিয়ে তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিবেশী ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, ব্রুনেই ও মালয়েশিয়ার বিরোধ দেখা দিয়েছে।