Published : 27 Aug 2025, 12:11 AM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে প্রথম মেয়াদে প্রথমবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি আবার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠক করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি।
সোমবার রাতে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংকে বৈঠকের জন্য স্বাগত জানানোর সময় ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠকের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এ বছর কিম জং-উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই। যথাযথ সময়ে তার সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় আছি।” তবে ট্রাম্পের এই কথার বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কিম জং-উন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সাড়া দেয়নি।
পরে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া নিয়ে অভিযোগ করেছে। তারা বলছে, এসব মহড়া প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্র কোরীয় উপদ্বীপ দখল করতে চায় এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোকে নিশানা বানিয়েছে।
ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একাধিকাবার কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনর্স্থাপনের বার্তা দিলেও কিম তা উপেক্ষা করে এসেছেন।
ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার (২০১৭-২০২১) সময়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের সঙ্গে বৈঠক করলেও তখন তিনি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে কোনও চুক্তি করতে পারেননি।
এবার দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে বৈঠককালে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়া নেতা কিমের সঙ্গে বৈঠকের বার্তা দিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আরও আলোচনার জন্যও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহের প্রতিক্রিয়ায় লি জে মিউং বলেন, “আমি আশা করি আপনি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি আনতে পারবেন। সেজন্য কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন। উত্তর কোরিয়ায় ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড বানান, যেখানে আমি গলফ খেলতে পারব। আর আপনিও বিশ্বমঞ্চে সত্যিকারের শান্তি স্থাপনকারীর ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
লি জে মিউং আগামী অক্টোবরে ‘এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনোমিক কো-অপারেশন’ (এপেক) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানান এবং ওই সফরে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করারও প্রস্তাব দেন।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা উত্তর কোরিয়াকে আটকাতে পারেনি, বরং দেশটি প্রতিবছর ১০-২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে।