Published : 06 Jul 2026, 03:29 AM
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নামার আগে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বস্তির খবর। দলটির স্ট্রাইকার ফোলারাইন বালোগনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে ফিফা। ফলে, বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে বাধা নেই তার।
ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার স্বপ্রণোদিত হয়ে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডলান্ড ট্রাম্প গত বুধবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফরোয়ার্ড বালোগনের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন। এরপরই এলো ফিফার এই সিদ্ধান্ত। যেখানে লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগই ছিল না!
শেষ বত্রিশে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন বালোগন। ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে তার গোলেই এগিয়ে যায় সহ-আয়োজকরা। ৬৪তম মিনিটে প্রতিপক্ষের তারিক মুহারেমোচকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার।
নিয়ম অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় বালোগনের। তবে রোববার ফিফা জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত থাকবে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই নিয়ে স্রেফ দ্বিতীয়বারের মতো টুর্নামেন্টের মাঝপথে কোনো খেলোয়াড়ের ‘নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার’ ঘটনা ঘটল। প্রথমটি ঘটেছিল ছয় দশকের বেশি সময় আগে। ১৯৬২ বিশকাপের সেমি-ফাইনালে চিলির এক খেলোয়াড়কে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলের গারিঞ্চা।
তখনকার সময়ে লাল কার্ডের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞার কোনো নিয়ম ছিল না। পুরো বিষয়টি ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির ওপর নির্ভর করত। ম্যাচ অফিসিয়ালদের রিপোর্ট পাওয়ার পর লাল কার্ডের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত কি না, তা মূল্যায়ন করত শৃঙ্খলা কমিটি।
গারিঞ্চার অপরাধ গুরুতরই ছিল। ফাইনালে খেলতে না পারার ঝুঁকিতে ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে শুধু সতর্ক করে দেওয়া হয়। ফলে ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-১ গোলে জয়ের ম্যাচে খেলতে পেরেছিলেন তিনি।
ফিফার পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সাম্প্রতিক নজিরও আছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-০ গোলে হারের ম্যাচে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কনুই মেরে লাল কার্ড দেখেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
প্রাথমিকভাবে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান তিনি। কিন্তু আর্মেনিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচে খেলতে না পারার পর, এই ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে ফিফা। যার ফলে এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রথম দুই ম্যাচে খেলার সুযোগ পান রোনালদো।
অন্যদিকে, আসরের গ্রুপ পর্বে কানাডার ইসমায়েল কোনেকে মারাত্মক ফাউল করে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবো। পেছন থেকে তার চ্যালেঞ্জে পড়ে যান কোনে এবং পা ভেঙে যায়।
আসরে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সর্বোচ্চ তিন গোল করা বালোগনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের খবরে অবাক হয়েছেন তার সতীর্থরাই। ডিফেন্ডার ক্রিস রিচার্ডসের কথাতেই ফুটে উঠছে সেটি।
“আমরা অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলাম এটা এআই (দিয়ে তৈরি)। আমরা সত্যিই খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম, কারণ আমরা সামাজিক মাধ্যমে খবরটা জানতে পারি; দারুণ ব্যাপার। বিষয়টি নিয়ে যদিও অনেক প্রশ্ন (উঠছে), তবে সব মিলিয়ে আমরা খুব, খুব খুশি ও রোমাঞ্চিত।”
বালোগনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ব্যাপারে ফিফা তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, “ধারা ২৭ এফডিসি অনুযায়ী, মার্কিন খেলোয়াড় ফ্লোরিয়ান বালোগনের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত করা হলো।”
ফিফা জানিয়েছে, এক বছর সময়ের মধ্যে বালোগন যদি একই ধরনের ও গুরুতর আরেকটি অপরাধ করেন, তাহলে তার নিষেধাজ্ঞার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং নতুন অপরাধের জন্য আরোপিত যেকোনো অতিরিক্ত শাস্তির ওপর কোনো প্রভাব না ফেলেই বর্তমান শাস্তিটি কার্যকর করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র দল এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি এবং আমরা আনন্দিত যে, ফ্লোরিয়ান বালোগন আগামীকালের ম্যাচটি খেলতে পারবেন।”
বালোগনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বন্ধু ট্রাম্প লিখেছেন, “সঠিক কাজটি করার জন্য এবং বড় একটি অবিচার সংশোধন করার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।”
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ৭ জুলাই ৬টায় (এএম) বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র।
বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তারা ফিফার এই সিদ্ধান্তে ‘বিস্মিত’ এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ‘সম্ভাব্য সকল বিকল্প খতিয়ে দেখছে।