১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাইন্যান্স হয়ে ইরানে ১৫০ কোটি ডলার গেছে: মার্কিন বিচার বিভাগ

বাইন্যান্স ব্যবহার করে ইরানি সামরিক বাহিনীর জন্য অর্থ পাচারের অভিযোগে বেশ কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

বাইন্যান্স হয়ে ইরানে ১৫০ কোটি ডলার গেছে: মার্কিন বিচার বিভাগ

বাইন্যান্সের সঙ্গে বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির ঘটনা নতুন নয়। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 16 Sep 2026, 04:45 PM

Updated : 16 Sep 2026, 04:45 PM

ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের মাধ্যমেই ইরানি সামরিক বাহিনীর জন্য দেড়শ কোটি ডলার পাচার করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্ল্যাটফর্মটি থেকে দুটি কোম্পানিকে সরিয়ে নেওয়া হলেও নিজেদের তদন্তকারীদের বরখাস্ত করার ঘটনা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিবেদনে লিখেছে, ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স ব্যবহার করে ইরানি সামরিক বাহিনীর জন্য অর্থ পাচারের অভিযোগে বেশ কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
৬ কোটি ১০ লাখ ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজেয়াপ্ত করার অভিযোগে বাইন্যান্সের এমন ভূমিকা তুলে ধরেছেন মার্কিন সরকারের আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের তথ্য অনুসারে, পরস্পরের সঙ্গে সংযোগওয়ালা একঝাঁক ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে মোট ১৫০ কোটি ডলার ইরানে পাঠানো হয়েছে।
এ পাচার চক্রের সঙ্গে হংকংভিত্তিক দুটি কোম্পানি ‘হেক্সা হোয়েল’ ও ‘ব্লেসড ট্রাস্ট’-এর সংযোগ রয়েছে। এসব কোম্পানি চীনের ক্রেতাদের কাছে কালোবাজারের ইরানি তেল বিক্রির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে।
বাইন্যান্স নিজেও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এক্সচেঞ্জটির নিজেদের তদন্তকারীরা বলেছেন, অন্যান্যদের পাশাপাশি এ দুটি কোম্পানি বাইন্যান্সের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মোটা অংকের অর্থ এমন এক নেটওয়ার্কে স্থানান্তর করেছিল, যা ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ বা আইআরজিসিকে অর্থায়ন করছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস বলেছে, এসব কোম্পানি ‘চীনের ক্রেতাদের কাছে কালোবাজারের ইরানি তেল বিক্রির অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের মাধ্যমে পাঠাতে বাইন্যান্স ব্যবহার করেছে’।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অর্থের মূল উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা এসব লেনদেনের কিছু অংশ মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ইরানে পৌঁছেছিল।
বাইন্যান্স ব্যবহার করে ইরানি সামরিক বাহিনীর জন্য অর্থ পাচারের অভিযোগে জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর প্ল্যাটফর্মটি থেকে দুটি সন্দেহজনক কোম্পানিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ‘ব্লেসড ট্রাস্ট’ নামের একটি কোম্পানি খোদ বাইন্যান্সেরই ব্যবসায়িক অংশীদার ও তারা পেমেন্ট সেবা দিত। সন্দেহজনক এসব লেনদেনের সন্ধান পাওয়া কিছু অভ্যন্তরীণ তদন্তকারীকে পরবর্তীতে চাকরিচ্যুত করেছে বাইন্যান্স, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে।
কোম্পানিটির দাবি, ‘ব্যক্তিগত পরিস্থিতির’ কারণেই ওই তদন্তকারীদের বরখাস্ত করা হয়েছিল।

বাইন্যান্সের সঙ্গে বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০২৩ সালে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছিল কোম্পানিটি এবং এর জন্য তাদের কয়েকশ কোটি ডলার জরিমানা গুনতে হয়।
এ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চাংপেং ঝাও চার মাস কারাগারেও কাটিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু বড় সংকটের মুখে পড়েছে এ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জটি। এর আগে, বাবাক জানজানি নামের এক ইরানি অর্থদাতার বিরুদ্ধে বাইন্যান্স ব্যবহার করে দুই বছরে প্রায় ৮৫ কোটি ডলার পাঠানোর অভিযোগ ওঠে, যা দেশটির যুদ্ধ তহবিলে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
তবে জানজানি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া সিস্টেমের ত্রুটি বা আউটেজের কারণে বিনিয়োগকারীদের লাখ লাখ ডলার ক্ষতি হওয়ায় একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলাও হয়েছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির এ ধরনের গোপন লেনদেন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি কোনো সরকারের কাছে গোপন উপায়ে অর্থ পাঠানো বা অন্ধকার জগতের নানা অবৈধ কার্যক্রমে অর্থায়ন যেভাবে সহজ হয়ে উঠেছে, তা প্রযুক্তি জগতের সুরক্ষার চেয়েও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।