কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা: মেটাকে ৪০০০ কোটি ডলার জরিমানা দাবি
২০২১ সালে ব্যবহারকারীদের ডেটা প্রাইভেসি নীতি নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করে নিউ মেক্সিকো সরকার।
বহুল আলোচিত কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ডেটা কেলেঙ্কারির ঘটনায় ফেইসবুকের মূল কোম্পানি মেটার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ৪ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত জরিমানা আদায়ের আবেদন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে অনুসারে, জুরির রায়ের পর অঙ্গরাজ্যটির কর্তৃপক্ষ আদালতের কাছে মেটাকে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার কোটি ডলার জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
এর আগে, ২০২১ সালে ব্যবহারকারীদের ডেটা প্রাইভেসি নীতি নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করে নিউ মেক্সিকো সরকার।
ব্রিটিশ রাজনৈতিক ডেটা বিশ্লেষণ ফার্ম কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কোনো ধরনের সম্মতি ছাড়াই রাজনৈতিক প্রচারণার কাজে প্রায় ৫ কোটি ফেইসবুক প্রোফাইলের তথ্য সংগ্রহ করেছিল।
সেপ্টেম্বরের শেষদিকে নিউ মেক্সিকোর এক জুরি বোর্ড সরকারের পক্ষে রায় দেয়।
জুরির মতে, মেটা নিউ মেক্সিকোর ন্যায্য অনুশীলন আইন লঙ্ঘন এবং ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি ও ভুল তথ্য হ্যান্ডেল করার পদ্ধতি সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছে।
জুরির এই রায়ের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্য সরকার চাইলে সর্বোচ্চ ২১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার পর্যন্ত জরিমানার দাবি তুলতে পারত।
মামলার সঙ্গে জড়িত মেটার বিভিন্ন বিবৃতির মধ্য থেকে ২৯টি বক্তব্য পরীক্ষা করে জুরি বোর্ড, যার মধ্যে ২৬টিকেই বিভ্রান্তিকর বলে প্রমাণ মিলেছে।
নিউ মেক্সিকোতে ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বিচারকরা বলছেন, ওইসব বক্তব্যের মাধ্যমে মেটা অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আইনের লঙ্ঘন প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ বার ঘটেছে।
কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ডেটা কেলেঙ্কারির ঘটনায় মেটাকে যে পরিমাণ জরিমানা দিতে হবে তা যেন কোম্পানিটির ওপর প্রকৃত প্রভাব ফেলতে পারে– এমন জোরালো দাবি করেছেন নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের প্রধান কৌঁসুলি র্যান্ডি ম্যাকগিন।
তিনি বলেছেন, “এই আদালতের উচিত মেটার সঙ্গে এমন ভাষায় কথা বলা, একমাত্র যা তারা বোঝে। আর সেটি হচ্ছে, অর্থ ও তাদের শেয়ারের বাজারদর।”
মেটা এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করলেও তাদের চাওয়া জরিমানা উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে বলে আত্মবিশ্বাসী ম্যাকগিন।
অন্যদিকে, মেটার পক্ষ থেকে আদালতের কাছে জরিমানা কমিয়ে সর্বোচ্চ ৩৪০ কোটি ডলারে সীমিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কোম্পানিটির দাবি, তাদের কোনো বিবৃতির কারণে নিউ মেক্সিকোর কোনো বাসিন্দা যে বাস্তবে বিভ্রান্ত হয়েছেন তা অঙ্গরাজ্য সরকার প্রমাণ করতে পারেনি।
এ বিষয়ে এ মাসের শেষদিকেই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন বিচারক।
