০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

গেল বছর অ্যানথ্রপিক প্রধানের আয় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার

গেল বছর আমোদেইয়ের আয় গুগল বা অ্যালফাবেট ও অ্যামাজনের সিইওদের চেয়ে বেশি হলেও ওরাকল ও এনভিডিয়ার সিইওদের পেছনে রয়েছেন তিনি।

গেল বছর অ্যানথ্রপিক প্রধানের আয় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার

আমোদেইয়ের পারিশ্রমিকের বড় অংশই এসেছে কোম্পানিটির শেয়ার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 11:44 AM

Updated : 07 Oct 2026, 11:44 AM

ক্লড এআই নির্মাতা কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই গত বছর সব মিলিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন।

কোম্পানিটির আইপিও সংক্রান্ত নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে, যার মাধ্যমে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রধান নির্বাহীদের পারিশ্রমিকের তালিকার ঠিক মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছেন তিনি।

রয়টার্সের দেখা অ্যানথ্রপিকের আইপিও প্রসপেক্টাস অনুসারে, এ বছরের শরতে বা তারও আগে শেয়ার বাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে কোম্পানিটি, যার বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

গেল বছর আমোদেইয়ের পারিশ্রমিক গুগল বা অ্যালফাবেট ও অ্যামাজনের সিইওদের চেয়ে বেশি হলেও ওরাকল ও এনভিডিয়ার সিইওদের পেছনেই রয়েছে।

আমোদেইয়ের পারিশ্রমিকের বড় অংশই এসেছে কোম্পানিটির শেয়ার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত মেলে, অন্যান্য অনেক প্রযুক্তি উদ্যোক্তার মতো তার বার্ষিক মূল বেতন তার মোট সম্পদের তুলনায় সামান্যই।

জুলাইয়ে আমোদেই এবং তার বোন ও অ্যানথ্রপিকের প্রেসিডেন্ট দানিয়েলা আমোদেই উভয়েরই বার্ষিক বেতন দ্বিগুণ করে ১৪ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

২০২৫ সালে তাদের মোট পারিশ্রমিকের বড় অংশজুড়ে ছিল স্টক ও অপশন অ্যাওয়ার্ড। এর মধ্যে দানিয়েলা গত বছর মোট ১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন।

নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভবিষ্যতে বড় অংকের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি হিসেবে এ বছর অ্যানথ্রপিকের বোর্ড এই দুই ভাইবোনকে রেস্ট্রিক্টেড স্টক ইউনিট আকারে আরও শেয়ার দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।

এর একটি অংশ কোম্পানিতে তাদের কাজের মেয়াদের সঙ্গে এবং অন্য অংশটি আইপিওর সঙ্গে যুক্ত।

কোম্পানির প্রধান আর্থ কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাও গেল বছর ৭ লাখ ২০ হাজার ২৫০ ডলার আয় করেছেন। ২০২৪ সালে যোগদানের সময় তাকে ১৪ লাখ শেয়ার কেনার অপশন দেওয়া হয়েছিল ও ২০২৫ সালে তিনি ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৮৫ ডলার অপশন ক্যাশ করেছেন।

এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরাধে সাড়া দেননি অ্যানথ্রপিকের এক মুখপাত্র।

মাঝারি অবস্থানে

যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক বছরে কর্মীদের আয়ের তুলনায় প্রধান নির্বাহীদের পারিশ্রমিক বহুগুণ বেড়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এআইয়ের ব্যাপক প্রসার ঘটলে এই বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

শ্রমিক সংগঠন ‘এএফএল-সিআইও’র তথ্য অনুসারে, ‘এসঅ্যান্ডপি ৫০০’ কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের গড় বার্ষিক পারিশ্রমিক ২১ শতাংশ বেড়ে গত বছর ২ কোটি ২৮ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তবে এই হিসাবের মধ্যে টেসলার প্রধান ইলন মাস্কের ১৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বড় রেস্ট্রিক্টেড স্টক প্ল্যানের মতো ব্যতিক্রমী বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত নয়।

নির্বাহী পারিশ্রমিক ডেটা ফার্ম ‘ইকুইলার’-এর গবেষণা পরিচালক কোর্টনি ইউ বলেছেন, দুই ট্রিলিয়ন ডলারের একটি কোম্পানির ক্ষেত্রে আমোদেইয়ের ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের পারিশ্রমিক ‘তুলনামূলকভাবে কম’।

তবে কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ও তার প্রকৃত মালিকানার পরিমাণ প্রকাশের পর পরিস্থিতি কীভাবে বদলায় সেটাই দেখার বিষয়।

তিনি বলেছেন, অন্য ছয়জন সহ-প্রতিষ্ঠাতা থাকায় অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানির সিইওদের তুলনায় আমোদেই হয়ত আইপিও থেকে আসা সম্পদের তুলনামূলক কম অংশ পাবেন।

এসইসি ফাইলিং অনুসারে, ২০২৫ সালে এআই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের পারিশ্রমিকের পরিমাণে অনেক তারতম্য দেখা গেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন ওরাকলের কো-সিইও ক্লেটন মাগুইর্ক, যার পরিমাণ ৬২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম ছিল স্পেসএক্সের সিইও হিসেবে ইলন মাস্কের পাওয়া ৫৪ হাজার ৮০ ডলার। (কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে যাওয়ার আগের হিসাব)।

তবে স্পেসএক্সের বাজারদর সাড়ে সাত ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছালে ও কোম্পানিটি মঙ্গলগ্রহে ১০ লাখ মানুষ পাঠাতে পারলে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ককে ‘সুপার-ভোটিং রেস্ট্রিক্টেড’ শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য বড় কোম্পানি বার্ষিক ভিত্তিতে কম পারিশ্রমিক দিলেও নির্বাহীরা মোটা অংকের শেয়ার মালিকানার সুবিধা ভোগ করেন, যেখানে বার্ষিক ফাইলিংয়ে কেবল বেতন ও নিরাপত্তার খরচগুলোই প্রতিফলিত হয়।

অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দার পিচাই ২০২৫ সালে ১ কোটি ৯ লাখ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন, যার মধ্যে ‘জনসমক্ষে তার উচ্চ পরিচিতির কারণে’ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পেছনেই ব্যয় হয়েছে ৮৮ লাখ ডলার।

‘প্রকৃত প্রদত্ত পারিশ্রমিক’ হিসেবে গত বছর পিচাইয়ের আয় ছিল ২১ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, যা তার অবিক্রীত শেয়ারের দামবৃদ্ধিসহ অন্যান্য বিষয় নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ড্রু জ্যাসি ২০২৫ সালে ২১ লাখ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন, যার বড় অংশই ছিল যাতায়াত ও নিরাপত্তার খরচ। প্রকৃত প্রাপ্তির হিসাবে জ্যাসির আয় ছিল ১ কোটি ৩২ লাখ ডলার।

শেয়ারের ওপর নির্ভরশীলতা

ইকুইলারের গবেষক কোর্টনি ইউ বলেছেন, এসব আর্থিক প্রতিবেদনে প্রমাণ মেলে, বার্ষিক পারিশ্রমিক নিয়ে শীর্ষ নির্বাহীদের খুব একটা ভাবতে হয় না।

“প্রতিষ্ঠাতা সিইওদের পর্যাপ্ত পরিমাণ ইক্যুইটি বা শেয়ারের মালিকানা থাকে যে, কোম্পানি ভালো করলে ও শেয়ারের দাম বাড়লে তারা কেবল নিজেদের মালিকানাধীন শেয়ারের সম্পদ দিয়েই জীবনযাপন করতে পারেন। ফলে তারা সাধারণত বার্ষিক পারিশ্রমিক হিসেবে খুব বেশি অর্থ নেন না।”

অ্যানথ্রপিক তাদের আইপিও নথিতে বলেছে, তারা বেতন, ইক্যুইটি অ্যাওয়ার্ড ও অন্যান্য সুবিধার একটি মিশ্রণ দিয়েছে। ‘এস-১’ নথিতে প্রতিষ্ঠাতাদের মালিকানার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করেনি কোম্পানিটি, যা আইপিও’র চূড়ান্ত শর্ত ও মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে শত শত কোটি ডলারের হতে পারে।

আইপিও নথিতে আমোদেই সহোদর ও তাদের সহ-প্রতিষ্ঠাতারা নিজস্ব অ্যানথ্রপিক ইক্যুইটির ৮০ শতাংশ দাতব্য কাজে দান করার অঙ্গীকার করেছেন।

সোমবার এই ৮০ শতাংশের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যানথ্রপিকের একজন মুখপাত্র এ বছরের শুরুতে দারিও আমোদেইয়ের লেখা এক প্রবন্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

ওই প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, এআই ব্যবহারের ফলে তৈরি বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ধনী ব্যক্তিদের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে।

পাশাপাশি তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, অনেক ধনী ব্যক্তি, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের অনেকেই ‘সম্প্রতি উদাসীন ও হতাশাবাদী মনোভাব পোষণ করছেন, যে মানবকল্যাণ বা দানশীলতা আসলে অর্থহীন’।