জনরোষ এড়াতে ডেটা সেন্টারের নাম বদলাচ্ছে ওপেনএআই
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে ডেমোক্রেটরা। ক্ষমতা পরিবর্তনের মুখে নিজেদের অবস্থান সুসংহত রাখতেই ওপেনএআইয়ের এই কৌশলগত পদক্ষেপ।
মানুষের ক্ষোভ কমাতে ডেটা সেন্টারের নতুন নাম দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি ওপেনএআই।
প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া নেতিবাচক মনোভাব কাটাতে বড় নীতিগত ও জনসংযোগ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা কোম্পানিটি।
সাম্প্রতিক সময়ে এআই এর মূল চালিকাশক্তি ডেটা সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে মানুষের তীব্র বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাসহ বিশ্বজুড়ে নীতি-নির্ধারকদের মধ্যেও এই উদ্বেগ ক্রমশ প্রতিফলিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওপেনএআই তাদের এ নতুন উদ্যোগ শুরু করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ বা ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে ডেমোক্রেটরা।
এই নির্বাচন শেষ হলেই পুরোদমে শুরু হবে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা।
ক্ষমতা পরিবর্তনের মুখে নিজেদের অবস্থান সুসংহত রাখতেই ওপেনএআইয়ের এই কৌশলগত পদক্ষেপ। কারণ, ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের হোয়াইট হাউস এআই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতি বেশ নমনীয় নীতি নিয়েছিল।
ওপেনএআই বা মেটার মতো অন্যান্য শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছাকাছি সুবিধা পেলেও রাজনীতিতে ক্ষমতার রদবদল এআই শিল্পের ওপর নতুন কড়াকড়ি ও চাপ তৈরি করতে পারে।
ওপেনএআইয়ের এ উদ্যোগের বড় অংশ ডেটা সেন্টার নামের রিব্র্যান্ডিং। কোম্পানিটি এখন থেকে একে ‘এআই কম্পিউট ক্যাম্পাস’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
বর্তমানে বড় বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ মানুষের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে অনেক প্রার্থী একে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়ও বানিয়েছেন।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের রাজনীতিকদের মধ্যেই এখন বিষয়টি নিয়ে কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপে ওপেনএআই আশা করছে, তারা এসব প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনে যেসব ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারবে।
ওপেনএআইয়ের চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার ক্রিস লেহেন বলেছেন, “স্থানীয় জনগণের উচিত কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখা, যাতে তারা সত্যিই এসব প্রকল্প থেকে সুফল পেতে পারে।”
রিব্র্যান্ডিং নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হতে পারে জেনেও এই পথ বেছে নিয়েছে ওপেনএআই। সিদ্ধান্তটি অন্তত মানুষকে ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ থেকে নজর সরাতে সাহায্য করবে।
বড় বড় সার্ভার কোম্পানিগুলো মাত্রাতিরিক্ত শব্দ তৈরি, স্থানীয় পরিবেশ বিঘ্নিত ও অনেক পরিমাণে পানি ব্যবহার করে এমন সব অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
ওপেনএআই প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে ‘স্পিড লিমিট’ বা গতিসীমা সংক্রান্ত আলোচনাকেও উৎসাহিত করবে, যা কোম্পানিগুলো কতটা দ্রুত নতুন নতুন এআই সিস্টেম উদ্ভাবন করতে পারবে সে বিষয়ে বাধ্যতামূলক সুরক্ষা ফ্রেমওয়ার্ক নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অর্থসংস্থানের সুফল তুলে ধরা ও এআই নীতি প্রণয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব জোরদার করার বিষয়টিও তাদের এই প্রচারণার মূলে থাকছে।
