৮০ বছরের রহস্য সমাধানের হাতছানি ‘যুগান্তকারী’ উদ্ভাবনে
“এ গবেষণা বিভিন্ন এমন যুগান্তকারী ধারণা দিচ্ছে, যা এখনই বিস্তৃত পরিসরে মেনে নেওয়া সুযোগ নেই। তবে, সে তত্ত্বগুলো নিয়ে নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগবে।”
বিজ্ঞানীরা পানির মাধ্যমে এমন এক যুগান্তকারী রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন, যা পৃথিবী কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি তৈরির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
গবেষণাটি চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি)’র একটি গবেষণা দল, যেখানে তারা ‘ফটমলিকিউলার ইফেক্ট’ নামের একটি প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছেন। এ পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো দেখা গেছে, তাপের উৎস ছাড়া শুধু আলো ব্যবহার করেই পানিকে বাষ্পীভূত করা যায়।
এই গবেষণায় ৮০ বছর পুরনো এক রহস্য সমাধানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তা হল, কেন মেঘ এমন এক উপায়ে সুর্যরশ্মি শোষণ করে, যা পদার্থবিদ্যার প্রচলিত নিয়ম মেনে চলে না।
বেশ কয়েক দশক ধরেই বিজ্ঞানীরা ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা এ অসঙ্গতি নিয়ে সন্দিহান যে, কীভাবে মেঘ গতানুগতিক তত্ত্বের সম্ভাব্য অনুমানের চেয়ে বেশি আলো শোষণ করে নিতে পারে।
“আলো ও পানির মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য দিচ্ছে তাপের পরিবর্তে আলো থেকে সৃষ্ট বাষ্পীভবনের এই সন্ধান,” বলেন পার্ডু ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক জিউলিন রুয়ান। তবে তিনি এ গবেষণার সঙ্গে জড়িত নন।
“কীভাবে সুর্যরশ্মি মেঘ, কুয়াশা, মহাসাগর ও অন্যান্য জলাধারের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুতে প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে গবেষণাটি।”
“এ গবেষণা বিভিন্ন এমন যুগান্তকারী ধারণা দিচ্ছে, যা এখনই বিস্তৃত পরিসরে মেনে নেওয়া সুযোগ নেই। তবে, সে তত্ত্বগুলো নিয়ে নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগবে।”
নতুন এই অনুসন্ধানের প্রভাব দেখা যেতে পারে জলবায়ু পরিবর্তনের হিসাব থেকে শুরু করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার মতো কাজেও। এমনকি বিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব পানি উৎপাদনের নতুন বাস্তবিক উপায় নিয়েও সম্ভাবনা দেখাচ্ছে এটি।
গবেষকদের তথ্য অনুসারে, এ গবেষণার প্রাথমিক ঝলক দেখা যেতে পারে সৌর ব্যবস্থায়, যার মাধ্যমে প্রচলিত কৌশলগুলোর চেয়েও কার্যকর উপায়ে পানযোগ্য পানি উৎপাদন সম্ভব।
“আমি মনে করি, এর অনেক সম্ভাবনা আছে,” বলেন এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত এমআইটি’র অধ্যাপক গ্যাং চেন।
“আমরা সব ধরনের সম্ভাবনাই পরীক্ষা করে দেখছি। আর নিশ্চিতভাবেই এটি প্রাথমিক বিজ্ঞানে প্রভাব ফেলবে। যেমন- পৃথিবীর জলবায়ুতে থাকা মেঘ। এ ছাড়া, বিভিন্ন জলবায়ু মডেলের কথা বিবেচনায় নিলে, সেগুলোতে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা দেখা যায় মেঘ নিয়ে।”
এ গবেষণার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে ‘ফটোমলিকিউলার ইফেক্ট: ভিজিবল লাইট ইন্টার্যাকশন উইথ এয়ার-ওয়াটার ইন্টারফেইস’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে, যা প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস (পিএনএএস)’-এ।
