১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩

ল্যাবে তৈরি ‘মানব মস্তিষ্ক’ মহাকাশে পাঠাল স্পেসএক্স

মহাকাশের ওজনহীন পরিবেশে ফসলের রোগবালাই দ্রুত ও মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ে কি না তা পরীক্ষা করাই এ গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।

ল্যাবে তৈরি ‘মানব মস্তিষ্ক’ মহাকাশে পাঠাল স্পেসএক্স

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সবকটি পরীক্ষামূলক নমুনা নিয়ে মহাকাশযানটি পৃথিবীতে ফিরবে। ছবি: ম্যাগনিফিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Oct 2026, 04:16 PM

Updated : 17 Oct 2026, 04:16 PM

ব্যতিক্রমী এক গবেষণার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএসে পাঠানো হয়েছে গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে তৈরি মানব মস্তিষ্কের কোষ বা টিস্যু।

মঙ্গলবার ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে যাত্রা শুরু করে নাসা ও স্পেসএক্সের যৌথ মিশন ‘সিআরএস-৩৫’। এরপর বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ৩টায় যানটি মহাকাশ গবেষণাগার আইএসএস-এ সফলভাবে যুক্ত হয়েছে।

স্পেসএক্সের ‘ড্রাগন’ ক্যাপসুলে করে পাঠানো ২ হাজার ৮৬০ কেজি রসদ ও সরঞ্জামাদির সঙ্গে রয়েছে গবেষণাগারে নিউরাল টিস্যু থেকে তৈরি বিশেষ ত্রিমাত্রিক মিনিয়েচার বা ক্ষুদ্র মানব মস্তিষ্কের মডেল।

সংক্ষেপে এগুলোর নাম ‘মিব্রেনস’ দেওয়ার কথা প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

মহাকাশের চরম প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের মস্তিষ্কে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে বা কী প্রভাব পড়ে তা বোঝার জন্য ‘মিব্রেনস’ আগামী কয়েক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রাখা হবে।

নাসা বলেছে, “এ পরীক্ষার আওতায় গবেষণাগারে তৈরি কৃত্রিম মানব মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র মডেলগুলোকে পাঁচ সপ্তাহের জন্য কক্ষপথের গবেষণাগারে পাঠানো হচ্ছে।

“স্বল্পমেয়াদী এক মহাকাশ ভ্রমণ কোষের স্তরে মানুষের মস্তিষ্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলে তা নির্ধারণ করতে গবেষকেরা মহাকাশে পাঠানো এসব টিস্যু মডেলের সঙ্গে পৃথিবীতে রাখা হুবহু একই রকম মডেলগুলোর তুলনা করে দেখবেন।”

বিজ্ঞানীরা মহাশূন্যের ওজনহীনতা বা ‘মাইক্রোগ্র্যাভিটি’ ও ক্ষতিকর বিকিরণের ফলে মস্তিষ্কের কোষে ও জিনগত গঠনে কী কী পরিবর্তন আসে তা পর্যবেক্ষণ করবেন।

এসব পরিবর্তন মানুষের বার্ধক্য প্রক্রিয়া ও স্নায়বিক বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

গবেষণার ফলাফল থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতে চাঁদ, মঙ্গল বা মহাকাশের আরও গভীরে দীর্ঘমেয়াদী অভিযানে যাওয়া নভোচারীদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যঝুঁকি ঠেকানোর উপায় বের করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের সময় মানবদেহে বেশ কিছু পরিবর্তন আগেই লক্ষ্য করেছেন গবেষকেরা।

এর মধ্যে রয়েছে পেশি ক্ষয় পাওয়া, হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন ও দেহের তরল পদার্থের প্রবাহের তারতম্য, যার ফলে নভোচারীদের মুখ কিছুটা ফোলা দেখায়।

এদিকে, নাসা ও স্পেসএক্সের ‘সিআরএস-৩৫’ মিশনে মস্তিষ্ক গবেষণার পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পাঠানো হয়েছে।

মহাকাশের ‘মাইক্রোগ্র্যাভিটি’ বা ওজনহীন পরিবেশে ফসলের রোগবালাই দ্রুত ও মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ে কি না তা পরীক্ষা করাই এ গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।

পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে দূর মহাকাশে মানুষের ভবিষ্যতের দীর্ঘ অভিযানে মহাকাশেই উৎপাদিত ফসলকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এসব উদ্ভিদ একদিকে যেমন নভোচারীদের পুষ্টির জোগান দেবে, অন্যদিকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন তৈরি করতেও ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, আইএসএসে উন্মুক্ত পরিবেশে উদ্ভিদ নিয়ে এ গবেষণার মাধ্যমে মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে সক্ষম রোগপ্রতিরোধী নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এ সবকটি পরীক্ষামূলক নমুনা নিয়ে মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছে সমুদ্রে অবতরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিরবে।