ভিন্ন ধাঁচের ‘এক্স-৭০’ প্লেন উন্মোচন করল নাসা
নাসা বলেছে, এ ধরনের সক্ষমতা প্লেনটিকে ‘বিভিন্ন জটিল পরিচালন পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জিং ফ্লাইট গবেষণা সম্পাদন করার’ সুযোগ দেবে।
নাসার নতুন এক পরীক্ষামূলক প্লেনের খবর প্রকাশ্যে এসেছে, যা এর আগের যে কোনো উড়োজাহাজের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে উড়তে পারে বলে দাবি করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি।
নাসা বলেছেন, ‘এক্স-৭০ ফ্র্যাক্টাল’ নামের প্লেনটির মূল লক্ষ্য ‘চালকসহ উড্ডয়নে এমন সব দিক উন্মোচন করা, যা আগে কোখনো দেখা যায়নি’।
নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেছেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ফ্লাইট কন্ট্রোল ব্যবস্থার পাশাপাশি অন্যান্য ‘আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তব ফ্লাইটে’ পরীক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন এ ফ্লাইট প্রযুক্তির পাশাপাশি এটি ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে মোট ৯১০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বা সরঞ্জাম বহন করতে পারবে।
এ ফ্লাইট প্রযুক্তির সুবিধা নতুন ধরনের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের পথ খুলে দেবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
পেলোড বহনের দক্ষতা প্রসঙ্গে আইজ্যাকম্যান বলেছেন, “এর মডিউলার ডিজাইন এবং দ্রুত অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পেলোড পরিবর্তন করার সক্ষমতা আমাদের সংস্থাকে নিরবচ্ছিন্ন উৎক্ষেপণ, নতুন জ্ঞান ও এক গবেষণা থেকে দ্রুত অন্য গবেষণায় স্থানান্তরের সুযোগ করে দেবে।”
আগামী দুই বছরের মধ্যে নাসার অধীনে প্লেনটির প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হতে পারে।
আইজ্যাকম্যানের ভাষায়, এটা ‘এভিয়নিক্সের এই নতুন যাত্রার কেবল সূচনা মাত্র’।
পরিসংখ্যান অনুসারে, ‘এক্স-৭০ ফ্র্যাক্টাল’ প্লেনটির সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ক্ষমতা চার হাজার ৫০০ কেজি। প্লেনটি শব্দের গতির ৭৫ শতাংশ গতিতে, সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার ফুট উচ্চতায় একটানা দুই হাজার সাতশ ৭৭ কিলোমিটার পাড়ি দিতে পারবে।
নাসা বলেছে, এ ধরনের সক্ষমতা বিমানটিকে ‘বিভিন্ন জটিল পরিচালন পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জিং ফ্লাইট গবেষণা সম্পাদন করার’ সুযোগ দেবে।
তবে এর মূল নকশা বা বাহ্যিক চেহারা নিয়ে খুব বেশি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি মহাকাশ সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে কেবল এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি রয়েছে, যেখানে ‘এক্স-৭০ ফ্র্যাক্টাল’ প্লেনটিকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকা অবস্থায় দেখা যায়।
নতুন প্লেনটিকে অতীতে তৈরি অন্যান্য ‘এক্স-প্লেনে’র সঙ্গেই তুলনা করেছে নাসা।
‘এক্স-৭০ ফ্র্যাক্টাল’ নাম থেকে ইঙ্গিত মেলে, যুক্তরাষ্ট্রে অতীতে এই সিরিজের বহু পরীক্ষামূলক যান তৈরি হয়েছে। তবে তালিকার সবকটি নম্বর সব সময় ব্যবহার করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘এক্স-প্লেন’ কর্মসূচির সূচনা ঘটেছিল ১৯৪৪ সালে, ‘বেল এক্স-১’-এর হাত ধরে।
নাসার পূর্বসূরি কোম্পানি ও মার্কিন বিমানবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে তৈরি প্লেনটি ১৯৪৭ সালে প্রথমবারের মতো শব্দের গতি অতিক্রম করার রেকর্ড গড়েছিল।
পরবর্তী সময়ে এই কর্মসূচির অধীনে একের পর এক সফল যান নির্মাণ হয়। যেমন, ১৯৬৭ সালে ‘এক্স-১৫’ চালকসহ চলা উড়োজাহাজ হিসেবে সর্বোচ্চ গতির রেকর্ড গড়ে। সেই রেকর্ড এখনও রয়েছে।
বিবৃতিতে নাসার ‘রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি মিশন ডিরেক্টরেট’-এর অ্যারোনটিক্স বিভাগের পরিচালক লরি গ্রিন্ডল বলেছেন, “কয়েক দশক ধরে নাসার অ্যারোনটিক্স বিভাগ বিমান চালনা বিদ্যাকে এগিয়ে নিতে এমন সব প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এসব এক্স-প্লেন।
“অ্যারোনটিক্স গবেষণাকে আরও দ্রুত ও গতিশীল করতে আরেকটি নতুন এক্স-প্লেন অন্তর্ভুক্ত করা সত্যিই রোমাঞ্চকর।”
তবে এ কর্মসূচির সবকটি প্লেন যে সফলতার মুখ দেখেছে তেমন নয়। ২০১৬ সালে এক দশকেরও বেশি সময় পর নাসা ‘এক্স-৫৭ ম্যাক্সওয়েল’ নামে নতুন উড়োজাহাজের কথা বলেছিল।
এ প্লেনের মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নির্গমন ও শব্দদূষণ কমায় এমন নতুন উড্ডয়ন প্রযুক্তি দেখানো।
তবে প্লেনটির প্রোপালশন সিস্টেমে নিরাপত্তা সম্পর্কিত ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ২০২৩ সালে প্রকল্পটি বাতিল ঘোষণা করে নাসা।
