‘মেরি ক্রিসমাস’: তিন দশক পূর্ণ হলো এসএমএস-এর

“আজকাল মানুষ ফোনে কথা বলার চেয়ে বেশি সময় তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। তর্কের খাতিরে বলাই যায় যে, এই বিবর্তনের প্রভাবক ছিল এসএমএস।”

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Dec 2022, 10:39 AM
Updated : 4 Dec 2022, 10:39 AM

তিন দশক পূর্ণ করেছে টেক্সট মেসেজ প্রযুক্তি। ১৯৯২ সালের ৩ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ার থেকে মোবাইল ফোনে ইতিহাসের প্রথম টেক্সট মেসেজ পাঠিয়েছিলেন ভোডাফোন প্রকৌশলী নিল পাপওর্থ। 

নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা করতেই খুদে বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী ওই তরুণ প্রকৌশলী। মেসেজের বক্তব্যও ছিল খুব সংক্ষিপ্ত, ‘শুভ বড়দিন’ বা ‘মেরি ক্রিসমাস’। 

পাপওর্থ মেসেজটি পাঠিয়েছিলেন সে সময়ের ভোডাফোন প্রধান রিচার্ড জার্ভিসকে। মজার বিষয় হচ্ছে, সম্ভবত হালের ‘সিন জোন’ বিড়ম্বনার শিকার হয়েছিল ইতিহাসের প্রথম টেক্সট মেসেজটিও। 

পাপওর্থের মেসেজটি যখন জার্ভিসের কাছে পৌঁছায়, তখন তিনি এক পার্টিতে। কোনো উত্তর পাননি পাপওর্থ। 

বিবিসি জানিয়েছে, জার্ভিসের ফোনটি ছিল ওরবিটেল ৯০১ মডেলের, ওজন ছিল দুই কেজি একশ গ্রাম। ওজনে যা আজকের দিনের কম-বেশি ১২টি আইফোন ১৪-এর সমান। 

‘শর্ট মেসেজ সার্ভিস’ বা এসএমএস প্রযুক্তির ব্যবহার যখন তুঙ্গে, সেই ২০১০ সালেই ডিকশনারিতে যোগ হয়েছে ‘টেক্সটিং’ শব্দটি।

এক দশক আগের তুলনায় এসএমএসের ব্যবহার আগের চেয়ে কমে এসেছে। তবে তা প্রযুক্তির ব্যর্থতার কারণে তো নয়ই, বরং অগ্রগতির কারণে। খোলনলচে পাল্টে হোয়াটসঅ্যাপ আর আইমেসেজের মতো ইন্টারনেট নির্ভর এনক্রিপ্টেড মেসেজিং সেবার আদলে সেই এসএমএসের চলই আজকাল বেশি। 

পরিসংখ্যানের সাইট স্ট্যাটিসটার তথ্য বলছে, কেবল যুক্তরাজ্যেই চার হাজার কোটি এসএমএস চালাচালি হয়েছে ২০২১ সালে। ২০১২ সালে এর আকার ছিল ১৫ হাজার কোটি। সংখ্যাগুলো প্রথম দেখায় হতাশাজনক মনে হলেও মনে রাখতে হবে যে কেবল হোয়াটসঅ্যাপেই প্রতিদিন ১০ হাজার কোটি মেসেজ আদান-প্রদান হয়।

টেক্সট মেসেজ বা এসএমএস এখনও নিয়মিত ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থাগুলো। ক্ষেত্রবিশেষে ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্তেও এসএমএসের ওপর নির্ভর করে অনেক কোম্পানি। 

তবে, ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ না থাকায় ২১ শতকে এসে তুলনামূলক অনিরাপদ হিসেবেই বিবেচিত এই প্রযুক্তি। 

প্রথম পর্যায়ে কেবল ১৬০ অক্ষরের বার্তা পাঠানো যেত এসএমএসে। বিবিসি জানিয়েছে, এ প্রযুক্তি ভাবনাটি বিজ্ঞানীদের মাথায় এসেছিল আরও এক দশক আগেই। 

প্রথম এসএমএসটি ১৯৯২ সালে পাঠানো হলেও দীর্ঘ দিন ডিভাইস নির্মাতাদের কাছে আলাদা গুরুত্ব পায়নি এটি। বাজারে স্মার্টফোন উন্মাদনা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বেশিরভাগ মোবাইল ফোনেই থাকতো নিউমেরিক কিবোর্ড বা নম্বর লেখা বাটন। আর প্রতি বাটনের নম্বরের নিচে থাকতো তিনটি করে অক্ষর। 

কেবল ইংরেজি ‘C’ অক্ষরটি লিখতে তিনবার বাটন চাপতে হতো ব্যবহারকারীকে।  

এর কারণ ব্যাখ্যা করে ইউনিভার্সিটি অফ সাফোর্ডের টেলিযোগাযোগ অধ্যাপক নাইজেল লিঞ্জ বিবিসিকে বলেন, “হ্যান্ডসেট নির্মাতারা ডিভাইসে পুরোদস্তুর কোয়ার্টি কিবোর্ড রাখতেন না কারণ মোবাইল কেবল ফোন কল করার জন্য এবং মেসেজ পাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হত, মেসেজ পাঠাতে নয়।”

টেক্সট মেসেজ আদান-প্রদানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার স্মৃতি রোমন্থন করে বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড বলেন, “দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল এটা। বেশিদিন যাওয়ার আগেই মানুষ এতো দ্রুত টেক্সট মেসেজ পাঠাতে শিখে গিয়েছিল যে নিউমেরিক কিবোর্ডে হাতের স্পর্শে না দেখেই টাইপ করতে পারতেন অনেকে।” 

“আজকাল মানুষ ফোনে কথা বলার চেয়ে বেশি সময় তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। তর্কের খাতিরে বলাই যায় যে, এই বিবর্তনের প্রভাবক ছিল এসএমএস।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক