জলবায়ুভিত্তিক এআই মডেল বানাচ্ছে নাসা ও আইবিএম

এর আগে মে মাসে আরেকটি ফাউন্ডেশন মডেল নিয়ে কাজ করেছিল প্রতিষ্ঠান দুটি, যেখানে ‘ভূ-স্থানিক বুদ্ধিমত্তার’ জন্য নাসার স্যাটেলাইট থেকে নিজস্ব ওপেন সোর্স এআই প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেইস’-এ ডেটা সংগ্রহ করে আইবিএম।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Dec 2023, 06:06 AM
Updated : 1 Dec 2023, 06:06 AM

আবহাওয়া ও জলবায়ুভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের জন্য নতুন এআই মডেল তৈরির উদ্দেশ্যে একজোট হয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও প্রযুক্তি জায়ান্ট আইবিএম।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যৌথ উদ্যোগে ভূবিজ্ঞান ও এআই খাতে নিজ নিজ মেধা ও দক্ষতাকে সমন্বয় করছে প্রতিষ্ঠান দুটি, যার মাধ্যমে ‘প্রচলিত প্রযুক্তি খাতে বড় অগ্রগতি’ আসার সম্ভাবনা আছে।

‘গ্রাফকাস্ট’ ও ‘ফোরকাস্টনেট’-এর মতো এআই মডেলগুলো এরইমধ্যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন দক্ষতা অর্জন করেছে, যা প্রচলিত ‘মিটিওরলজিকাল’ মডেলকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তবে আইবিএম বলছে, এগুলো ফাউন্ডেশন মডেল নয়, বরং ‘এআই ইমুলেটর’।

বিভিন্ন জেনারেটিভ এআইভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন তৈরির জন্য ব্যবহৃত ভিত্তি প্রযুক্তিকে ফাউন্ডেশন মডেল বলা হয়ে থাকে। অন্যদিকে, এআই ইমুলেটর আবহাওয়ার পূর্বাভাষ দেয় বিভিন্ন ফাউন্ডেশন মডেলের প্রশিক্ষিত ডেটার ভিত্তিতে। আইবিএম বলছে, আবহাওয়া পূর্বাভাসের পেছনে থাকা পদার্থবিদ্যাকে এনকোড করা সম্ভব হয়ে ওঠে এগুলোর পক্ষে।

এ ফাউন্ডেশন মডেল নিয়ে নাসা ও আইবিএম-এর বেশ কিছু লক্ষ্যমাত্রা আছে। আর প্রচলিত মডেলগুলোকে তুলনায় নিলে এ নতুন মডেলে প্রবেশযোগ্যতা বিস্তৃত করার পাশাপাশি এর জবাব দেওয়ার সক্ষমতা আগের মডেলগুলোর চেয়ে দ্রুত করার ও এতে আরও বৈচিত্র্যময় ডেটা রাখার আশা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি। এর আরেকটি মূল লক্ষ্য হল, জলবায়ুভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে পূর্বাভাসের নির্ভুলতা আগের চেয়ে উন্নত করা।

নতুন এ মডেলে যেসব সক্ষমতা আশা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে আবহাওয়া সংক্রান্ত ঘটনার অনুমান, কম রেজুলিউশনের ডেটার ওপর ভিত্তি করে উচ্চ রেজুলিউশনের ডেটা অনুমান ও  উড়োজাহাজের টার্বিউলেন্স থেকে শুরু করে দাবদাহের মতো পরিস্থিতি শনাক্ত করা।

এর আগে মে মাসে আরেকটি ফাউন্ডেশন মডেল নিয়ে কাজ করেছিল প্রতিষ্ঠান দুটি, যেখানে ‘ভূ-স্থানিক বুদ্ধিমত্তার’ জন্য নাসার স্যাটেলাইট থেকে নিজস্ব ওপেন সোর্স এআই প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেইস’-এ ডেটা সংগ্রহ করে আইবিএম।

এখন পর্যন্ত, কেনিয়ায় গাছ রোপন ও সেখানকার পানিবিহীন অঞ্চলগুলো পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে এআই মডেলটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল, আরও বেশি গাছ রোপন করা ও পানি খরার মতো ঘটনা ঠেকানো। এ ছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহুরে দ্বীপগুলোর তাপমাত্রা বিশ্লেষণের বেলাতেও এআই মডেলটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে।