পুঁজিবাজারে আসতে চায় অ্যানথ্রপিক
দেড় ট্রিলিয়ন ডলার ভেল্যুয়েশনের কোম্পানিটি তালিকাভুক্তির সময় বাজারমূল্যে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আলোচনায় থাকা এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক এবার পুঁজিবাজারে আসতে চায়। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন জমা দিয়েছে কোম্পানিটি।
বছর পাঁচেক আগে যাত্রা শুরু করা এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শীর্ষস্থানীয় এই কোম্পানি দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক মূল্যায়ন (ভেল্যুয়েশন) করেছে। সেটির ভিত্তিতে এটি তালিকাভুক্ত হলে তা ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স এর বাজারমূল্যকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ কারণে পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি হতে যাচ্ছে আইপিও ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘটনা। তবে কোম্পানিটি কতগুলো শেয়ার বাজারে ছাড়বে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবর অনুযায়ী, আবেদনে অ্যানথ্রপিক পুঁজিবাজারে ‘এএনটি’ প্রতীকে লেনদেন করার কথা বলেছে।
এর আগে বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত স্যান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক কোম্পানিটির আর্থিক মূল্য দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে মূল্যায়ন করেছিল।
চলতি বছর স্পেসএক্স এর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সময় এটির ভেল্যুয়েশন প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার করা হয়েছিল। এমন প্রারম্ভিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে এটি পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বড় তালিকাভুক্তির রেকর্ড গড়েছিল।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও অ্যামোদেই এ বছরের জুনে শেয়ারবাজারে আসার ঘোষণা দিয়েছিল। পাঁচ বছর আগে বোন ড্যানিয়েলা অ্যামোদেই ও আরও পাঁচজন সহ-প্রতিষ্ঠাতাসহ কোম্পানিটির গড়ে তুলেছেন তিনি।
শক্তিশালী এআই মডেল তৈরির দৌড়ে শীর্ষস্থানীয় নাম অ্যানথ্রপিক। এটির প্রধান ও মূল পণ্য হচ্ছে জনপ্রিয় চ্যাটবট ক্লড, যা লেখা তৈরির পাশাপাশি উন্নত কোডিং ও সাইবার নিরাপত্তার মতো জটিল কাজে পারদর্শী হয়ে উঠছে।
চ্যাটজিপিটির নির্মাতা কোম্পানি ওপেনএআই ছেড়ে এসে এই অ্যানথ্রপিক প্রতিষ্ঠা করেছেন দারিও আমোদেই।
সম্প্রতি নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এল অ্যানথ্রপিকের আর্থিক পরিস্থিতি। সম্ভাব্য ‘এআই বুদ্বুদ’ নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে তীব্র জল্পনা-কল্পনার মধ্যে এসব তথ্য সামনে আসছে।
এরই মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের পণ্য ব্যবহার নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে কোম্পানিটি। এ দ্বন্দ্বের জের ধরে অ্যানথ্রোপিককে সামরিক সরবরাহের জন্য ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কোনো মার্কিন কোম্পানির ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্ত এটাই প্রথম।
এর ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো সংস্থা অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারছে না।
