এবার অ্যানথ্রপিকের সিস্টেমে হানা নতুন এআই স্টার্টআপের
এ বছরই স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেছে মার্কিন ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ বা ডজ-এর সাবেক কর্মীরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে কেবল ১২ ঘণ্টার মধ্যে অনুপ্রবেশের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নতুন এক এআই স্টার্টআপ।
এই ঘটনায় কোম্পানিটির ভেতরের বহু বার্তা ও গোপন তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
নিরাপত্তা ত্রুটি খোঁজার কর্মসূচি ‘বাগ বাউন্টি’র অংশ হিসেবে অ্যানথ্রপিকের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে ‘ক্যাথিড্রাল’ নামের ওই স্টার্টআপটি।
এ বছরই স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেছে মার্কিন ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ বা ডজ-এর সাবেক কর্মীরা।
এ তথ্য প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদামধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। তারা প্রতিবেদনে লিখেছে, এই সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনায় অ্যানথ্রপিকের অভ্যন্তরীণ ‘স্ল্যাক’ মেসেজ, বিভিন্ন বৈঠকের লিখিত বিবরণ, কর্মীদের বেতন ও চাকরির নিয়োগপত্র সংক্রান্ত তথ্য উন্মুক্ত হয়েছে।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, ক্যাথিড্রাল তাদের সেলস, এইচআর ও আইটি ব্যবস্থার ‘সীমিত কিছু অংশে’ প্রবেশ করেছিল। তবে কোনো ব্যবহারকারীর সঙ্গে এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’-এর আলাপে তারা প্রবেশ করতে পারেনি।
পাশাপাশি, এআই মডেলটির মূল সোর্স কোডও সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।
বিবৃতিতে অ্যানথ্রপিক বলেছে, “ক্যাথিড্রাল আমাদের কাছে বিষয়টি জানানোর আগেই আমাদের নজরদারি প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যক্রম ধরা পড়ে। আমরা ওই দিনই তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করেছি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, “একেবারে নতুন স্টার্টআপ খুলে একদল তরুণ যদি এটা করতে পারে তবে চীনের মতো প্রতিপক্ষরাও হয়ত খুব বেশি পিছিয়ে নেই।”
তবে নিরাপত্তা গবেষকরা বলছেন, এ কোনো জটিল বা উন্নত এআইভিত্তিক সাইবার হামলা ছিল না, বরং অ্যানথ্রপিকের ব্যবহৃত থার্ড পার্টি সফটওয়্যারের প্রাথমিক নিরাপত্তা সুরক্ষার মৌলিক গাফিলতিই এর মূল কারণ।
সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘এক্সট্রাহপ’-এর প্রধান প্রবক্তা হিথ মূলিন্স বলেছেন, “ক্যাথিড্রালের এ অনুসন্ধানী অনুপ্রবেশে স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে, সবচেয়ে উদ্ভাবনী কোম্পানিগুলোও কীভাবে সাপ্লাই-চেইন হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
“এআই কোম্পানিগুলো এখন সাইবার হামলার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে, কারণ অসংখ্য কোম্পানি তাদের দৈনন্দিন কাজের কাঠামো এসব প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে তুলছে।
“যখন কয়েকটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের ওপর অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নির্ভর করে তখন কেবল একটি কোম্পানিতে নিরাপত্তা বিচ্যুতি ঘটলেই তার নেতিবাচক প্রভাব নিচে থাকা সবার ওপরই পড়ে।”
আইপিও’র জন্য অ্যানথ্রপিক আবেদন করার কেবল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ তথ্য সামনে এল।
আইপিও আবেদনে বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন রূপ দেওয়ার পাশাপাশি ক্যান্সারের মতো ব্যাধি নিরাময়ে সক্ষম এআই ব্যবস্থা গড়ে তোলার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে অ্যানথ্রপিক।
কোম্পানিটি বলেছে, তাদের এআই মানব ইতিহাসের ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি’, যা ক্যান্সার, অ্যালঝেইমার, হৃদরোগ, বিরল জিনগত ব্যাধি ও মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধিসহ মানবজাতিকে দীর্ঘদিন ধরে ভোগানো রোগগুলো নিরাময়ে ‘সম্ভাব্য ভূমিকা রাখবে’।
তবে এআই মডেলগুলো কতটা শক্তিশালী তার বিবরণে অ্যানথ্রপিক বলেছে, এগুলো মানবতার জন্য ‘অস্তিত্বগত ঝুঁকিও’ তৈরি করতে পারে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও সম্ভবত ঘোষণা করতে যাচ্ছে কোম্পানিটি, যা ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।
