লেকের দূষণ রোধ: ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ভবনে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের নির্দেশ
যেসব ভবনের অনুমোদিত নকশায় সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল নির্মাণের সংস্থান রয়েছে, সেসব ভবনের মালিকদের আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন এলাকার লেকগুলো দূষণমুক্ত করতে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ভবনগুলোতে সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েলের নির্মাণকাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বুধবার অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজউকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব ভবনের অনুমোদিত নকশায় সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল নির্মাণের সংস্থান রয়েছে, সেসব ভবনের মালিকদের আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। না হলে ইমারত নির্মাণ আইন এবং ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া যে ১২৬৯টি ভবনে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল ও স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সেসব ভবনের তালিকা সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকার সোসাইটিগুলোকে দেওয়া হবে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েলের কাঠামোগত নকশা রাজউক থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। এ সংক্রান্ত আবেদন পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে রাজউককে।
এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় লেক ও পানি নিষ্কাশনের নালায় পয়োবর্জ্য প্রবেশ বন্ধে কলাগাছ দিয়ে অবৈধ সংযোগ বন্ধের অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ওই সময় ডিএনসিসির এক জরিপের বরাতে বলা হয়েছিল, চার এলাকার ৩ হাজার ৮৩০টি বাড়ির মধ্যে ৩ হাজার ২৬৫টির পয়োবর্জ্য সরাসরি পানি নিষ্কাশনের নালা ও লেকে পড়ছিল।
২০২৪ সালের মে মাসে মেয়র পদে চার বছর পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি বাড়ির পয়োবর্জ্যের পাইপে কলাগাছ ঢুকিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে না পারা তার আক্ষেপের বিষয়। ওই সময়ও তিনি গুলশান ও বারিধারার বাড়িগুলো থেকে সরাসরি খালে পয়োবর্জ্য ফেলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বুধবারের সভায় রাজধানীর লেকগুলোর বিদ্যমান দূষণ পরিস্থিতি, দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, পানির মান উন্নয়ন এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল মতিন ও সারোয়ার আলম, রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ রফিকুল হাসান এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কে এম মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর উপস্থিত ছিলেন।
