ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের কনটেন্ট পরীক্ষা করবে মেটার ‘ওভারসাইট বোর্ড’

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই মাস ধরে চলমান যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সহিংস, বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এ দায়িত্ব বর্তালো পর্ষদের ওপর।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Dec 2023, 09:28 AM
Updated : 8 Dec 2023, 09:28 AM

মেটা কীভাবে নিজস্ব সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ, জিম্মি সঙ্কট ও বোমা হামলার কনটেন্ট সামাল দিয়েছে, তা পর্যালোচনা করে দেখার কথা জানিয়েছে কোম্পানির ‘স্বাধীন’ ওভারসাইট বোর্ড।

এ বছরের শুরুতে মেটার চালু করা নতুন পর্যালোচনা পদ্ধতি ব্যবহারের প্রথম ঘটনা হতে যাচ্ছে এটি, যেখানে বিভিন্ন কনটেন্ট নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে পর্ষদকে। রয়টার্স বলছে, সাধারণত এমন কনটেন্টের ক্ষেত্রে বেশ কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলে পর্ষদের মধ্যে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই মাস ধরে চলমান যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সহিংস, বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এ দায়িত্ব বর্তালো পর্ষদের ওপর।

গত ৭ অক্টোবর সংঘর্ষ শুরুর পর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্ভাব্য ক্ষতিকর কনটেন্ট মুছে ফেলার ব্যবস্থা সাময়িকভাবে শিথিল করে মেটা। ফলে হামাসের হাতে জিম্মি ইসরায়েলি নাগরিকদের চিহ্নিত করা বিভিন্ন পোস্ট আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মুখে পড়া ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সমর্থন জানানো বিভিন্ন পোস্টে খড়্গ চালানোর অভিযোগও ওঠে মেটার বিরুদ্ধে।

এমনই একটি ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখবে এ স্বতন্ত্র পর্ষদ, যেখানে গাজার আল শিফা হাসপাতালে বিস্ফোরণ পরবর্তী অবস্থা দেখানো এক ভিডিও ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে মেটার বিরুদ্ধে। ওই ভিডিওতে আহত ও মৃত শিশুদেরও দেখা যায়।

পর্ষদ বলছে, ওই ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, হাসপাতালটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ‘দখলদাররা’, যেখানে স্পষ্টভাবেই ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে বোঝানো হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত মাসে বলেছে, হাসপাতালের ওই বিস্ফোরণ যে রকেটের মাধ্যমে হয়েছিল, তা সাধারণত ফিলিস্তিনি সশস্ত্র দলগুলো ব্যবহার করে।

পর্ষদ ওই ঘটনাটি পর্যালোচনার জন্য বেছে নেওয়ায় একটি সতর্কবার্তা যোগ করে ভিডিওটি প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে এনেছে মেটা।

পাশাপাশি, ফেইসবুকের আরেকটি ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখবে মেটার ওভারসাইট বোর্ড। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি অপহরণকারীদের অনুরোধ করছেন যে তাকে যেন হত্যা না করা হয়।

পর্ষদ আরও বলছে, ৭ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয় ওই ভিডিওর ক্যাপশনে।

পর্ষদের তথ্য অনুসারে, প্রাথমিকভাবে ভিডিওটি সরানো হলেও সামাজিক মাধ্যমে অপহরণের ভিডিও শেয়ার করার প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে কয়েক সপ্তাহ পর এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মেটা।

প্রথম ঘটনার মতই এ ভিডিওতে সতর্কবার্তা জুড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ওভারাসাইট বোর্ড।

পর্ষদের পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্তকে এক বিবৃতিতে স্বাগত জানিয়েছে মেটা। এ ছাড়া, তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তই বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কোম্পানিটি।