Published : 01 Nov 2022, 06:02 PM
২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো মহাকাশে শক্তিশালী ‘ফ্যালকন হেভি’ রকেট উৎক্ষেপণ করছে স্পেসএক্স।
প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যালোইনের পরের সকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত নয়টা ৪০ মিনিটে মহাকাশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতার রকেটটি।
স্পেসএক্স প্রথম এই ‘ট্রিপল’ রকেট উৎক্ষেপণ করেছিল ২০১৮ সালে। তবে, আকারে এর চেয়েও বড় স্টারশিপ রকেটের প্রচারণা চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে সবাই একে ভুলেই গিয়েছিল। আর এখন কক্ষপথে মার্কিন স্পেস ফোর্সের জন্য দুটি ‘পে লোড’ নিয়ে যাবে এটি।
“সাম্প্রতিককালে, ‘স্পেসএক্সের বড় রকেট’ হিসেবে আমরা হয়তো স্টারশিপ ও এর সঙ্গী ‘সুপার হেভি বুস্টার’কে উল্লেখ করি। নাসার লক্ষ্য, এর মাধ্যমে চাঁদে আবার নভোচারী পাঠানো। আর ইলন মাস্কের স্বপ্ন, এটি ব্যবহার করে মঙ্গল গ্রহে একটি সমাজ তৈরি করা।” --প্রতিবেদনে লিখেছে সিনেট।
এখন পর্যন্ত স্পেসএক্সের গারাজ থেকে মহাকাশে যাত্রা করা সবচেয়ে বড় রকেট ফ্যালকন হেভি। ২০১৮ সালের প্রথম যাত্রায় টেসলার একটি গাড়িসহ একে রেড প্ল্যানেটের দিকে পাঠিয়েছিল স্পেসএক্স।
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ‘৩৯-এ’ লঞ্চপ্যাড থেকে পরবর্তী উৎক্ষেপণ হবে ‘ইউএসএসএফ ৪৪’ নামে চিহ্নিত এই অভিযান।
এর আগে, হ্যালোইন উৎসবের সকালেই রকেটটির যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও বৃহস্পতিবারে পরীক্ষা চালানোর পর অভিযানটি একদিন পেছানোর সিদ্ধান্ত হয়।
একে একটি ‘গোপন অভিযান’ বলে জানিয়েছে স্পেস ফোর্স।
“এই অভিযানে দুটি পে লোড থাকবে -- একটি তুলনামূলক বড় স্যাটেলাইট ও ‘টেট্রা-১’ নামে পরিচিত একটি মাইক্রো-স্যাটেলাইট।” --নিজেদের এক ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
“মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রোটোটাইপ ‘জিও’ সিরিজের উৎক্ষেপিত প্রথম স্যাটেলাইট হবে টেট্রা-১, যা ভবিষ্যত স্যাটেলাইটগুলোর জন্যদ বিভিন্ন সিস্টেম পদ্ধতির পরীক্ষা চালাবে।”
অভিযানটির মূল পরিকল্পনা হয়েছিল ২০২০ সালের জন্য। তবে, রকেটে পেলোড সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা থাকায় একাধিকবার পিছিয়েছে সে পরিকল্পনা।
সিনেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, থ্রাস্টারে তিনগুণ ধাক্কা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এক সঙ্গে আটকে আছে রকেটে থাকা তিনটি ফ্যালকন ৯ বুস্টার।
নাসার পেছানো ‘আর্টেমিস ১ স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’, স্টারশিপ ও সুপার হেভি রকেটের চেয়ে তুলনামূলক কম ক্ষমতাসম্পন্ন হলেও, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কর্মক্ষম রকেট এটি।
এই রকেটে আছে দুটি সাইড বুস্টার, যা উৎক্ষেপণের কিছু সময় পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ও প্রায় একইসঙ্গে নেমে আসবে। মাঝের বুস্টার ভূমিতে অবতরণের বদলে গিয়ে পড়বে আটলান্টিক মহাসাগরে।