এআই সুবিধাসহ প্রথম ডিজিটাল ফটো ফ্রেম আনল অ্যামাজন
ফ্রেমের টাচস্ক্রিন ব্যবহার করে হাত দিয়ে স্লাইড করেও ছবি দেখা যাবে। দুটি ছবির মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পেলে অ্যালেক্সা সেগুলোকে পাশাপাশি দেখাবে।
এর আগেও ডিজিটাল ফটো ফ্রেম বাজারে এনেছে অ্যামাজন। তবে এবারই প্রথমবারের মতো বিল্ট-ইন ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যালেক্সা ও এআই সুবিধাসহ ফটো ফ্রেম উন্মোচন করেছে কোম্পানিটি।
‘অ্যালেক্সা ফটো ফ্রেম’ নামের ডিভাইসটিতে রয়েছে ১০ ইঞ্চির হাই-ডেফিনিশন অ্যান্টি-গ্লেয়ার টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে। আশপাশের সাদা মেটিং ও আসল কাঠের ফ্রেমের কারণে প্রথম দেখায় এটাকে সাধারণ ফটো ফ্রেম বলেই মনে হবে।
এর সেমি-ম্যাট ও আলো-প্রতিফলনবিরোধী স্ক্রিনের কারণে পর্দায় থাকা বিভিন্ন ছবিকে ডিজিটাল ছবির বদলে বাস্তবের ছাপা আলোকচিত্রের মতো দেখায়।
এ ছাড়া, ঘরের আলোর তীব্রতা বুঝে এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সমন্বয় করতে পারে।
অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহকরা বিনামূল্যে ‘অ্যামাজন ফটোস’-এ ছবি সংরক্ষণ করতে পারেন, সেখান থেকেই নতুন ফ্রেমটিতে ছবি দেখাবে।
অ্যামাজন বলেছে, তাদের এআই পরিষেবা ‘অ্যালেক্সা প্লাস’ সংরক্ষিত ছবিগুলোর মধ্য থেকে সেরা ছবিটি বেছে নিতে পারে। এটা হাসিমুখের বা ভালো আলোতে তোলা ছবি বা চলতি ঋতুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দৃশ্য নির্বাচন করবে।
অক্টোবরের ক্ষেত্রে এটা গেল বছরের হ্যালোইন পোশাক পরা পারিবারিক বিভিন্ন ছবি দেখাতে করতে পারে। এটা স্ক্রিনশট বা রসিদের ছবি শনাক্ত করতে পারে, যাতে সেগুলো ফ্রেমে ভেসে না ওঠে।
ব্যবহারকারীরা চাইলে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ছবি ফ্রেমে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। নির্দিষ্ট কনটেন্ট নির্ধারণ করে দেওয়ার পর নতুন কোনো ছবি তোলা হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্রেমের তালিকায় যোগ হয়ে যাবে।
অ্যামাজন বলেছে, এর ফলে ‘দাদি বা নানি মুহূর্তের মধ্যেই নাতি-নাতনিদের তোলা শেষ ছবিটি দেখতে পাবেন’।
তবে উপহার হিসেবে কাউকে দেওয়া ফ্রেমের ক্ষেত্রে অ্যামাজন ফটোসে কোন ছবিগুলো রাখা হচ্ছে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কোম্পানিটি।
ব্যবহারকারীর বন্ধু বা পরিবারের সদস্যরাও সরাসরি ডিভাইসে ছবি পাঠাতে পারবেন। অ্যালেক্সা সংযোগ থাকায় নির্দিষ্ট কোনো ছবি খোঁজার জন্য ফোনের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ডিভাইসটিকে কেবল ভয়েস কমান্ড দিয়েই বলা যাবে, ‘আমাদের ইতালি ভ্রমণের ছবিগুলো দেখাও’ বা ‘সন্তানদের সাম্প্রতিক ছবিগুলো দেখাও’, আর তাতেই অ্যালেক্সা ব্যবহারকারীর পছন্দমতো ছবি খুঁজে স্ক্রিনে ফুটিয়ে তুলবে।
এ ছাড়া, ফ্রেমের টাচস্ক্রিন ব্যবহার করে হাত দিয়ে স্লাইড করেও ছবি দেখা যাবে। দুটি ছবির মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পেলে অ্যালেক্সা সেগুলোকে পাশাপাশি দেখাবে।
যেমন, দশ বছর বয়সে ব্যবহারকারীর সন্তানের পুলে সাঁতার কাটার একটি ছবির পাশে কয়েক বছর আগের একই কার্যকলাপের আরেকটি ছবি পাশাপাশি ভেসে উঠবে।
ডিভাইসে দেখানো ছবিগুলোর সঙ্গে ভয়েস নোট বা স্মৃতিকথা যোগের সুবিধাও রেখেছে অ্যামাজন। কালো রঙে ‘অ্যালেক্সা ফটো ফ্রেম’ মিলবে ২০০ ডলারে ও আসল বার্চ বা ওয়ালনাট কাঠের ফ্রেমে এর দাম পড়বে ২৩০ ডলার।
প্রতিটি ডিভাইসের সঙ্গে মিলবে ৯০ দিনের বিনামূল্যে অ্যালেক্সা প্লাস ব্যবহারের সুযোগ। তবে এর মেয়াদ শেষ হলে অ্যালেক্সা প্লাসের ফিচারগুলো ব্যবহার করতে হলে প্রাইম সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে।
