কম বয়সী নারীদের জন্য অ্যালকোহলের ঝুঁকি কোথায়?

যারা প্রায়ই এক বসায় নানা ধরনের অ্যালকোহল মিশিয়ে ফেলেন, যেটি ‘বিঞ্জ ড্রিংকিং’ নামে পরিচিত, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 April 2024, 09:21 AM
Updated : 3 April 2024, 09:21 AM

সম্প্রতি ‘আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজি’র বার্ষিক সভায় অনেকের নজর কেড়েছে এক গবেষণা, যেখানে তরুণ থেকে মধ্যবয়সী নারীদের অ্যালকোহল পান ও হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে এক উদ্বেগজনক যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, যেসব নারী দিনে একাধিকবার বা সপ্তাহে আট বা তার বেশিবার মদ্যপান করেন, তাদের হার্টের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

সমস্যা আরও আছে, যারা প্রায়ই এক বসায় নানা ধরনের অ্যালকোহল মিশিয়ে ফেলেন, যেটি ‘বিঞ্জ ড্রিংকিং’ নামে পরিচিত, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা। এ ধরনের অভ্যাস ও হার্টের বিভিন্ন সমস্যা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, যা নারীদেরকে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

এ গবেষণায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ওপর নজর দেওয়া হয়, যেখানে মদ্যপান কীভাবে হৃদরোগকে প্রভাবিত করতে পারে, তা খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছেন গবেষকরা।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক তরুণ-তরুণী হার্টের সমস্যায় ভুগছেন। একই সময়ে বিগত বছরের তুলনায় মদের গ্লাস হাতে নেওয়া নারীর সংখ্যাও বেড়েছে।

এদিকে, এ গবেষণার প্রধান গবেষক ও হৃদরোগের চিকিৎসক ড. জামাল রানা একটি বিষয় নিয়ে বিশেষভাবে বিস্মিত হয়েছেন। কারণ, তার অনুমান ছিল, হৃদরোগের ঝুঁকি বয়স্ক নারীদের মধ্যে দেখতে পাবেন, তরুণীদের মধ্যে নয়।

এ গবেষকের কাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য উদ্বেগকে তুলে ধরেছে, মদ্যপানের চরম পর্যায়ে না গিয়ে, এমনকি পরিমিত মদ্যপানও তরুণীদের হৃদরোগের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

নতুন এই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সেবা সংগঠন ‘কায়সার পারমানেন্টে’র চার লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোগীর দিকে নজর দেওয়া হয়, যার মধ্যে প্রায় দুই লাখ ৪৩ হাজার পুরুষ ও এক লাখ ৮৯ হাজার নারী ছিলেন। এতে অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল প্রায় ৪৪ বছর। আর এ গবেষণা শুরু করার সময় তাদের কেউই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন না।

অংশগ্রহণারীদের মদ্যপানের অভ্যাস বুঝতে গবেষকরা এসব রোগীর নিয়মিত চেক-আপের জন্য বিশেষ স্ক্রিনিং ব্যবহার করেছিলেন, যার মাধ্যমে তারা কতটা মদ্যপান করেন, তা সঠিকভাবে জানতে পেরেছিলেন গবেষকরা।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এ গবেষণায় গবেষকরা দেখেছেন, কাদের ‘করোনারি হার্ট ডিজিজ’ হতে পারে। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে হৃদপিণ্ডের ধমনী সরু হয়ে যায়, ফলে রক্তের প্রবাহ হ্রাস পায় এমনকি কখনও কখনও সেটা হার্ট অ্যাটাকের কারণও হতে পারে। এক্ষেত্রে গবেষকরা দেখেছেন, অ্যালকোহল গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়েছে।

যেসব নারী অনেক বেশি পরিমাণে মদ্যপান করেন তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি অল্প পরিমাণে মদ্যপানকারীদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি। আর যারা মাঝারি পরিমাণে মদ্যপান করেন, তাদের ঝুঁকি ২৯ শতাংশ বেশি।

মদ্যপানকারী নারীরা সাধারণত মাঝারি মদ্যপানকারীদের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন, যেখানে তাদের হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি ৬৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, পুরুষদের বেলায় হৃদরোগের ঝুঁকি ৩৩ শতাংশ বেশি।

এ গবেষণায় ড. রানা মানুষের প্রচলিত একটি ভুল ধারণা তুলে ধরেছেন। অনেক নারী দাবি করেন, তারা বড় না হওয়া পর্যন্ত হৃদরোগ থেকে নিরাপদ। তবে এ গবেষণাটি বলছে, অতিরিক্ত মদ্যপান বা এক বসায় নানা ধরনের মদ্যপান অল্পবয়সী বা মধ্যবয়সী নারীদেরকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, মাঝারি মদ্যপান হৃদরোগের ঝুঁকিতে বড় পরিবর্তন করে না, এমনকি যারা মাঝে মাঝে মদ্যপান করে তাদের মধ্যেও। তবে, অ্যালকোহল তাদের রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে।

যেহেতু নারীদের অ্যালকোহল সেবনের ধরন পুরুষের তুলনায় ভিন্ন, তাই এ গবেষণায় হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রতিরোধের কৌশল পরিকল্পনা করার সময় মদ্যপানের অভ্যাস বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়।

ড. রানা দাবি করেছেন, হৃদরোগ নিয়ে আলোচনায় কেবল ধূমপান নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসাবে অ্যালকোহলের প্রতিও আরও মনোযোগ দেওয়ার সময় এসেছে।