নেদারল্যান্ডস থেকে বেরিয়ে গেল ‘রাশিয়ার গুগল’ খ্যাত ইয়ানডেক্স

ইয়ানডেক্স সবসময় নিজেদেরকে রাশিয়ার প্রভাবমুক্ত বলে দাবি করে এলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ইউক্রেইনের বুচা শহরে রাশিয়ার নৃশংসতার খবর প্রকাশ করেনি কোম্পানিটি।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Feb 2024, 11:10 AM
Updated : 6 Feb 2024, 11:10 AM

নিজের উৎপত্তিস্থল নেদারল্যান্ডস থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে ‘রাশিয়ার গুগল’ নামে পরিচিতি পাওয়া বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি ‘ইয়ানডেক্স’।

ইয়ানডেক্স বলেছে, তাদের ডাচ মালিকানাধীন মূল কোম্পানি সাড়ে ৪৭ হাজার কোটি রুবেল বা পাঁচ হাজার দুইশ কোটি ডলারে বিক্রি হয়ে গেছে, যা তাদের আনুমানিক বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম।

বিনিয়োগকারীদের এই কোম্পানিটিকে সহযোগী সংগঠনের কাছে বিক্রির মানে দাঁড়ায়, ইয়ানডেক্সের রাশিয়া অংশের ব্যবসা এখন সম্পূর্ণ রুশ মালিকানাধীন।

এর আগে এই কোম্পানিটির বিরুদ্ধে রাশিয়ার জনসাধারণের কাছে ইউক্রেইন যুদ্ধের তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছিল।

কোম্পানির সর্বশেষ অধিগ্রহণের চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে মস্কো। কোম্পানিটি বলেছে, “১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিস্তৃত পরিকল্পনা ও আলোচনার ফলাফল এটি।”

“কয়েক বছর আগে ইয়ানডেক্স যখন পশ্চিমা আইটি জায়ান্টদের দখলে চলে যাওয়ার হুমকির মধ্যে ছিল তখন আমরা এ লক্ষ্যই অর্জন করতে চেয়েছি,” বলেন রাশিয়ান পার্লামেন্ট কমিটির তথ্য নীতিবিষয়ক উপ প্রধান অ্যান্তন গোরেলকিন।

“রাশিয়ার কাছে ইয়ানডেক্স আর ১০টি সাধারণ কোম্পানির মতো নয়। গোটা রুশ সমাজের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।”

১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে ‘ডটকম বুম’ নামে নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন, ম্যাপিং ও বিজ্ঞাপন ব্যবসা শুরু করে ইয়ানডেক্স। আর কোম্পানির অন্যান্য পরিষেবার মধ্যে রয়েছে ট্যাক্সি ও খাবার ডেলিভারি সেবা।

পাঁচ হাজার দুইশ কোটি ডলারের চুক্তিটি ইয়ানডেক্সের বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম বলে ধারণা প্রকাশ করেছে বিবিসি। ২০২১ সালে কোম্পানিটির আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় তিন হাজার কোটি ডলার।

কোম্পানিটি ‘রাশিয়ার গুগল’ নামে পরিচিতি পেলেও মার্কিন সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল বা এর মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের সঙ্গে সম্পর্ক নেই ইয়ানডেক্সের।

ইউক্রেইনে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে অনেক বিদেশী মালিকানাধীন ব্যবসা রাশিয়া ছেড়েছে। সে সময় বাজারমূল্যের চেয়েও খুব কম দামে নিজ সম্পদ বিক্রি করতেও বাধ্য হয়েছে অনেক কোম্পানি।

এ ছাড়াও, ফরাসি খাদ্যপণ্য কোম্পানি ‘ড্যানোন’ ও অ্যালকোহল উৎপাদক ডেনমার্কের কোম্পানি ‘কার্লসবার্গ’-এর পাশাপাশি অন্যান্য পশ্চিমা কোম্পানির সম্পদও বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ঘটনা পরম্পরায় ২০২২ সালে ইয়ানডেস্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আরকাদি ভোলোজও নিজের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি থেকে সরে আসেন। রাশিয়া সংশ্লিষ্ট যেসব শীর্ষ ব্যবসায়ীরা ইউক্রেইনে আক্রমণ চালানোর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাদের অন্যতম ছিলেন তিনি।

২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন ভোলোজ। সে সময় এর কারণ হিসেবে ইউনিয়ন বলেছিল, “সার্চ ফলাফলে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার ভুল ব্যাখ্যা প্রচার ও ক্রেমলিনের সমালোচনামূলক কনটেন্ট যেমন ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন সম্পর্কিত কনটেন্ট অপসারণের জন্যও দায়ী ইয়ানডেক্স।”

তবে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার জন্য ইউরোপীয় আদালতের দ্বারস্থ হন ভোলোজ। তার দাবি, তিনি কখনই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন না।

২০২২ সালের শেষ দিকে রাশিয়ান সরকারের কনটেন্ট সংশ্লিষ্ট দাবি মেনে চলার জন্য কোম্পানিটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি ‘ভিকে’র কাছে নিজেদের কিছু অনলাইন রিসোর্স বিক্রি করেছিল ইয়ানডেস্ক।

ইয়ানডেক্স সবসময় নিজেদেরকে রাশিয়ার প্রভাবমুক্ত বলে দাবি করে এলেও ২০২২ সালে ‘বিবিসি মনিটরিংয়ের’ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ইউক্রেইনের বুচা শহরে রাশিয়ার নৃশংসতার খবর প্রকাশ করেনি কোম্পানিটি।