০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আবরারের নামে কুষ্টিয়ায় সেতু ও বুয়েটে হল নির্মাণের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস

আবরার হত্যার ঘটনা পাঠ্যবইয়েও অন্তর্ভুক্তির দাবি তুলেছেন তার ভাই।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 08:58 PM

Updated : 08 Oct 2026, 08:58 PM

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন তার বাবা বরকত উল্লাহ।

এছাড়া কুষ্টিয়ায় আববারের নামে একটি সেতু ও বুয়েটে হল নির্মানেরও দাবি তুলেছে তার পরিবার।

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরকার প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা এ দাবি তুলে ধরেন বলে তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, তাদের এক মামা ও চাচা। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।”

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নং কক্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করে।

ঘটনার আগের দিন ৫ অক্টোবর আবরার ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে স্বাক্ষরিত কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতার সমালোচনা করেছিলেন। মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ, ফেনী নদীর পানি এবং গ্যাস রপ্তানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর পরদিন রাতে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে।

উপ প্রেস সচিব বলেন, “সাক্ষাতে আবরার ফাহাদের বাবা ছেলের হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। “

“জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

সাক্ষাতে আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ এবং সেটি আবরারের নামে নামকরণের দাবি তোলেন। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণ এবং আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেন।

এছাড়া আবরার ফাহাদের কবর পাকাকরণ কার্যক্রম পাশের মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করে পরিবার। প্রধানমন্ত্রী মসজিদটির নির্মাণ কাজ অবিলম্বে শেষের নির্দেশনাও দেন।

সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা তার ছেলের হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এক আসামি কাশিমপুর কারাগার থেকে পালিয়ে পর এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, “প্রত্যেক ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েই আমার মত কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমি চাই, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আর আগের মত পরিবেশ ফিরে না আসে। কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।”

আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বুয়েটে তার ভাইয়ের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি জানান। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।

একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদের বিষয়ে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্তির দাবিও তোলেন আবরার ফাইয়াজ।

সাক্ষাতের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।