Published : 31 May 2023, 05:17 PM
উন্নতমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আবারও সতর্কবার্তা দিয়েছেন দুই শীর্ষ এআই কোম্পানির প্রধান।
যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘সেন্টার ফর এআই সেইফটি প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সমর্থন জানিয়েছেন ডিপমাইন্ড ও ওপেনএআই’র প্রধান নির্বাহী ডেমিস হাসাবিস ও স্যাম অল্টম্যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ঝুঁকিগুলো ‘আরও গুরুতরভাবে’ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনপ্রণেতাকে।
“মহামারী ও পারমাণবিক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য ‘বিলুপ্তির ঝুঁকি কমিয়ে আনা’ বৈশ্বিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিৎ।” --উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিতে।
‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রতিফলিত সামাজিক মাপের ঝুঁকি’ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সেন্টার ফর এআই সেইফটি। সংস্থার দাবি, নতুন রাসায়ণিক অস্ত্র তৈরি ও আকাশসীমায় যুদ্ধ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহৃত হলে সেটি ‘অত্যন্ত ক্ষতিকারক’ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
সর্বশেষ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা অবশ্য স্পষ্ট করে বলেননি যে, এআই’র মাধ্যমে কী ধরনের বিলুপ্তি ঘটতে পারে। তবে এতে স্বাক্ষর করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মহাকাশ নিয়ে কাজ করেন বা এ বিষয়ে শিক্ষকতা করেন এমন শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ।
‘এআই গডফাদার’ নামে পরিচিতি পাওয়া জেফ্রি হিনটন ও চ্যাটজিপিটি’র নির্মাতা ওপেনএআই’র প্রধান বিজ্ঞানী ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া সুটস্কেভার ছিলেন তাদের মধ্যে।
We’ve released a statement on the risk of extinction from AI.
— Center for AI Safety (@ai_risks) May 30, 2023
Signatories include:
- Three Turing Award winners
- Authors of the standard textbooks on AI/DL/RL
- CEOs and Execs from OpenAI, Microsoft, Google, Google DeepMind, Anthropic
- Many morehttps://t.co/mkJWhCRVwB
এই তালিকায় আরও আছেন গুগলের মতো কোম্পানির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারক, ভিডিও কলিং সেবা স্কাইপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের প্রতিষ্ঠাতারা।
বিভিন্ন কোম্পানি নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই গোটা বিশ্বে এআই নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। আর এগুলো ব্যবহার করে কেবল নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন টেক্সট, ছবি এমনকি কম্পিউটার কোড তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তি মানুষের চাকরি কমিয়ে দিতে পারে। তবে, সাম্প্রতিক বিবৃতিতে ‘এর চেয়েও গভীর শঙ্কা’ নিয়ে সতর্কবার্তা এসেছে।
চ্যাটজিপিটি ও ডাল-ই’র মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার উত্থানে ‘মানব বুদ্ধিমত্তা অতিক্রম করতে পারলে এআই একদিন গোটা মানবতার অস্তিত্বকে মুছে দেবে’ এমন শঙ্কা পুনরায় জাগ্রত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি কমিয়ে আনার উপায় হিসেবে এই বছরের শুরুতে বিভিন্ন এআই কোম্পানিকে নিজেদের কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য থামিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নেতারা।
“মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম বুদ্ধিমত্তা সমাজ ও মানবতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।” --উল্লেখ রয়েছে অলাভজনক সংস্থা ‘ফিউচার অফ লাইফ ইনস্টিটিউটের’ খোলা চিঠিতে।
“এখনকার বিভিন্ন ক্ষমতাবান ও অত্যাধুনিক সিস্টেমকে তুলনামূলক নির্ভুল, নিরাপদ, ব্যাখ্যাযোগ্য, স্বচ্ছ, মজবুত, সারিবদ্ধ, বিশ্বস্ত ও অনুগত করে তোলার দিকে পুনরায় মনোনিবেশ করা উচিত বিভিন্ন এআই গবেষণা ও বিকাশের।"