সিরি’র নতুন সংস্করণ ‘আনতে পারে’ অ্যাপল

জেনারেটিভ এআই ‘ডিভাইসে থাকবে’ বা ‘ক্লাউডভিত্তিক’ হবে কি না, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে বিতর্ক চলছে কোম্পানির মধ্যে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Oct 2023, 11:02 AM
Updated : 23 Oct 2023, 11:02 AM

ডিজিটাল সহকারী সিরি’র নতুন সংস্করণ নিয়ে কাজ করছে অ্যাপল। আর এতে যুক্ত হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি।

বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির তুলনায় লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল নিয়ে কিছুটা আড়ালে থেকেই কাজ শুরু করেছে অ্যাপল।

কোম্পানির এআই ও সফটওয়্যার প্রকৌশল বিভাগ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কোম্পানির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন জিয়ানানড্রিয়া ও ক্রেইগ ফেডেরিঘি।

এর মধ্যে, মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী,  জিয়ানানড্রিয়ার দল নতুন এআই ব্যবস্থা তৈরি করছে। তার কর্মীরা সিরি’র ‘তুলনামূলক স্মার্ট’ সংস্করণ তৈরিতে কাজ করছেন, আর এটি প্রকাশ পেতে পারে আগামী বছর নাগাদ।

অন্যদিকে, ফেদেরিঘির দল কাজ করছে আইওএস-এর পরবর্তী সংস্করণগুলোয় এআই সক্ষমতা যোগ করার পেছনে। এর ফলে, সিরি ও অ্যাপলের ‘মেসেজেস’ অ্যাপ উভয় জায়গাতেই তুলনামূলক উন্নত জবাব ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাক্য শেষ করার সুবিধা মিলবে।

এদিকে, দলগুলোর কাজ চলাকালীন জেনারেটিভ এআই ‘ডিভাইসে থাকবে’ বা ‘ক্লাউডভিত্তিক’ হবে কি না, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে বিতর্ক চলছে কোম্পানির মধ্যে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিভাইসে এআই তুলনামূলক দ্রুত কাজ করে ও এর প্রাইভেসি নিয়েও শঙ্কা নেই। তবে, ক্লাউডভিত্তিক এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে এর চেয়েও উন্নত সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ মিলবে।

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লাউড ব্যবস্থায় এআই নিজের রূপ পুরোপুরিভাবে তুলে ধরতে পারে কারণ এতে তুলনামূলক বেশি ডেটা থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়।

গত বছর মেটা, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এআই প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করলেও অ্যাপল সেই পথে হাঁটেনি। তবে, পর্দার আড়ালে অ্যাপল সেইসব কোম্পানির অগ্রগতির কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছানোর চাপ অনুভব করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে প্রযুক্তি সাইট ইনসাইডার।

“এই বিষয়ে যথেষ্ট উদ্বেগের জায়গা আছে। আর অভ্যন্তরীণভাবে একে বড় সুযোগ হাতছাড়া করা হিসেবে দেখা হচ্ছে।” --এক সূত্র বলছে ব্লুমবার্গকে।

পাশাপাশি, হঠাৎ বিভিন্ন কোম্পানির এআই ব্যবস্থা নিয়ে তোরজোড় করার বিষয়টি অ্যাপলকে ‘চমকে’ দিয়েছে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।

গ্রীষ্মে ‘ডব্লিউডব্লিউডিসি’ আয়োজনের কি নোটে অ্যাপল সিইও টিম কুক ও কোম্পানির অন্যান্য নির্বাহী একবারও ‘এআই’ শব্দটি ব্যবহার করেননি, যেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

তবে, অ্যাপল এ বছরের আগে এআই নিয়ে চিন্তা করেনি, বিষয়টি এমন নয়।

“আমরা বেশ কয়েক বছর ধরেই এআই প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছে জেনারেটিভ এআইয়ের বিষয়টিও।” --অগাস্টে রয়টার্সকে বলেন কুক।

তিনি আরও বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর গবেষণা ও এআই বিকাশের পেছনে কোম্পানির বাজেট বেড়েছে প্রায়  ৩১২ কোটি ডলার।

এদিকে ‘আয়াক্স’ নামের নিজস্ব এআই মডেল নিয়েও কাজ করছে অ্যাপল। জুলাইয়ে বেনামী সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উঠে আসে, কোম্পানি এর সক্ষমতা একটি অভ্যন্তরীণ চ্যাটবটে পরীক্ষা করেছে। আর কোম্পানির কিছু কর্মী একে আখ্যা দিয়েছেন ‘অ্যাপল জিপিটি’ হিসেবে। 

সেপ্টেম্বরে সংবাদ সাইট ইনফর্মেশনকে বিভিন্ন সূত্র বলেছে, আয়াক্স প্রশিক্ষিত হয়েছে ‘২০ হাজার কোটির বেশি মানদণ্ডের ভিত্তিতে’, যা ওপেনএআইয়ের ‘জিপিটি ৩.৫’-এর চেয়েও উন্নত।

বিভিন্ন এআই মডেল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে মানদণ্ড বা প্যারামিটার ব্যবহার করা হয়। জিপিটি ৩.৫-এ ব্যবহৃত হয়েছে সাড়ে ১৭ হাজার কোটি প্যারামিটার। এমনকি চ্যাটজিপিটি’র বিনামূল্যের সংস্করণেও এগুলো ব্যবহৃত হয়েছে।

ইনসাইডার বলছে, অ্যাপলের এআই কার্যক্রম পিছিয়ে পড়ার কারণ হল এটি মূলত একটি হার্ডওয়্যার কোম্পানি। তৃতীয় প্রান্তিকে হার্ডওয়্যার বিক্রি করেই আট হাজার ১৮০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে অ্যাপল। এর মধ্যে কেবল আইফোন বিক্রি করেই আয় হয়েছে তিন হাজার ৯৬০ কোটি ডলার।

এই প্রসঙ্গে ইনসাইডার অ্যাপলের মন্তব্য জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিক জবাব মেলেনি।