Published : 16 Jun 2026, 05:55 PM
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও মার্কিন অভিবাসন সংস্থার সঙ্গে গুগলের বিতর্কিত চুক্তির প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, যেখানে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ ও বয়কটের মুখে পড়েছেন গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দার পিচাই।
প্রায় দুইশো শিক্ষার্থী পিচাইয়ের বক্তব্য বর্জন করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যান। গেল সপ্তাহের ছুটিতে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন পিচাই।
Stanford grads walk out as Google CEO Sundar Pichai takes the stage as commencement speaker. No mention of AI, unlike other uni speakers getting booed down this year. Story for @sfgate shortly pic.twitter.com/qvS2rJ91Ip
— Matt Brown (@maattttbrown) June 14, 2026
এ ইউনিভার্সিটি থেকেই পিচাই ম্যাটিরিয়ালস সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন স্নাতক শেষ করা দুইশো জন শিক্ষার্থী তার বক্তব্য বয়কট এবং অন্য শিক্ষার্থীরা দুয়োধ্বনিতে পিচাইয়ের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট টেকক্রাঞ্চ।
শিক্ষার্থীদের এ প্রতিবাদের মূল কারণ ছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে গুগলের ব্যবসায়িক চুক্তি, বিশেষ করে অ্যামাজনের সঙ্গে যৌথভাবে করা ১২০ কোটি ডলারের বিতর্কিত ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’, যার মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীকে ক্লাউড ও এআই প্রযুক্তি সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আমেরিকার ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ বা আইসিই সংস্থার সঙ্গে গুগলের সম্পর্ক নিয়েও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ছিল।
শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘গুগলের এআই দিয়ে আইসিই গোয়েন্দাগিরি করছে’, ‘গুগলের প্রযুক্তিতে গণহত্যা চলছে’ ও ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’।
এদিকে, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াচ্ছেন ও ‘ফিলিস্তিন স্বাধীন করো’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।
প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করেছি কারণ যেসব কোম্পানি এই সহিংসতাকে মদদ দিচ্ছে, আমরা তাদের গুণগান গাইতে রাজি নই। আমরা আমাদের অধিকার খাটিয়ে এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছি।”
এ বয়কট কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠন, যার মধ্যে রয়েছে ‘স্ট্যানফোর্ড স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’, ‘নো টেক ফর অ্যাপারথাইড’ ও ‘টেক ফর লিবারেশন’।
এ পুরো বিষয় নিয়ে টেকক্রাঞ্চের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি গুগল।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’-এ গুগলের যোগ থাকা নিয়ে কোম্পানির ভেতরে ও বাইরে তীব্র প্রতিবাদ চলছে। ২০২৪ সালে এ চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় গুগল তাদের ২৮ জন কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে। এরপরও কোম্পানির ভেতরে এ নিয়ে অসন্তোষ থামেনি।
সম্প্রতি ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ‘ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন’ও গুগলের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল যেভাবে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে গুগলসহ অন্যান্য কোম্পানি তা দেখেও না দেখার ভান করছে।
তবে কেবল গুগল একাই নয়, অ্যামাজনও এ ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’ চুক্তিটিকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সাহায্যের জন্য মাইক্রোসফটও সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ইন্টারনেট দুনিয়ায় ব্যবসায়িক নেতাদের কাছ থেকে সমালোচনার মুখেও পড়েছে শিক্ষার্থীদের এ প্রতিবাদ।
‘সান মাইক্রোসিস্টেমস’-এর বিলিয়নেয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিলিকন ভ্যালির অন্যতম শীর্ষ পুঁজিপতি বিনোদ খোসলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, এ প্রতিবাদটি ছিল ‘একপেশে, বোকামি, দূরদর্শিতাহীন ও চরম স্বার্থপরতা’।
স্ট্যানফোর্ডে পিচাইয়ের এ পরিস্থিতি আসলে বড়সড় এক চিত্রেরই অংশ। দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তারা যখনই বিদায়ী শিক্ষার্থীদের এআই নিয়ে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছেন তখনই তারা এমন দুয়োধ্বনির মুখে পড়েছেন।
তবে পিচাইয়ের মতো এত সরাসরি ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু করে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা খুব কমই ঘটেছে। কারণ এখানে শিক্ষার্থীদের রাগ কেবল এআইয়ের চটকদার প্রচারণার ওপর ছিল না, বরং সরাসরি পিচাইয়ের কোম্পানির নেওয়া ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছিল।