Published : 18 Jun 2026, 03:05 PM
“চার বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে রাতের খেলাগুলো ঠিকমতো দেখতে পারছি না
“পছন্দের দলের খেলা মিস হলে মেজাজ ঠিক থাকে না”- কথাগুলো বলছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের বারাকপুর গ্রামের গৌরাঙ্গ দাস।
ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বাগেরহাটের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। শহর ও গ্রামীণ এলাকায় প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এতে সাধারণ মানুষ একদিকে যেমন চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে তীব্র গরমে রাতে ঘুমাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বাগেরহাট শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-ওজোপাডিকো এবং গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
তবে দুটি সংস্থাই গ্রাহকদের চাহিদামতো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বাগেরহাট ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালীদুল ইসলাম খান এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাহফুজুর রহমান বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিচ্ছেন।
লোডশেডিংয়ের তীব্রতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গৌরাঙ্গ দাস বলেন, “মাসের বিদ্যুৎ বিল আমরা নিয়মিত পরিশোধ করছি, অথচ সঠিকভাবে গ্রাহকসেবা পাচ্ছি না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতি জোর দাবি জানাই।”
বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর সিকদার বলেন, “গত ২-৩ তিন ধরে লোডশেডিং অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্যুৎ চলে যায়, আসে রাত ৯টার দিকে। এরপর দুই ঘণ্টা পরে আবার ১১টার বিদ্যুৎ চলে যায়।”
ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়া এ গ্রাহক বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “এই যন্ত্রণায় না রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারছি, না পারছি বিশ্বাকাপের খেলাগুলো দেখতে।”
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা খান মাহমুদ আরিফুল হক বলছিলেন, “পল্লী বিদ্যুৎতের লোডশেডিং সব সময় বেশি। গরমের সময় তা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে।
“গত কয়েকদিন ধরে দিনের মধ্যে অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে শিশু আর বৃদ্ধরা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রাতে ঘুমাতে পারছে না।”
তিনি বলেন, “পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়েনি, যার কারণে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। সরকারের উচিত চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।”
বাগেরহাট ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালীদুল ইসলাম খান বলেন, বাগেরহাট পৌরসভা এলাকায় প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দৈনিক প্রায় ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকে।
তিনি বলেন, সেখানে তারা বর্তমানে পাচ্ছেন ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। চাহিদা ও সরবরাহের এই ঘাটতির কারণে বাগেরহাটের চারটি ফিডারে প্রতি তিন ঘণ্টা পর পর এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এর ফলে দিনে গড়ে প্রায় আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, বাগেরহাটের নয়টি উপজেলা ও খুলনার রুপসা উপজেলা মিলিয়ে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ছয় লাখ। ৯৪টি ফিডারের এই গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১১৯ মেগাওয়াট। অথচ সরবরাহ মিলছে ৭৮ মেগাওয়াট। ঘাটতি রয়েছে ৩৪ শতাংশ।
তিনি বলেন, “চলতি সপ্তাহ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে। এলাকাভিত্তিকভাবে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে, যা কখনো কখনো পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও বাড়ানো হচ্ছে।
“তবে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যখন চলছে তখন আমরা আধা ঘন্টার বেশি লোডশেডিং দিচ্ছি না।”