Published : 26 Jun 2026, 02:44 PM
চীনের প্রযুক্তি ও ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার বিরুদ্ধে ক্লড এআই মডেলের সক্ষমতা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনেছে মার্কিন এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক।
রয়টার্সের দেখা এক চিঠির সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টিকে কোম্পানিটির ওপর হওয়া এ ধরনের সবচেয়ে বড় আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছে অ্যানথ্রপিক।
আলিবাবার এ আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টাকে ‘ডিসটিলেশন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে কোম্পানিটি। তাদের মতে, এ প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী এআই মডেলের আউটপুট বা ফলাফল ব্যবহার করে তুলনামূলক কম সক্ষমতার আরেকটি মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ৫ জুনের মধ্যে এ সুপরিকল্পিত অভিযানটি চালানো হয়। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ক্লডের সঙ্গে দুই কোটি ৮৮ লাখের বেশি তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে।
চিঠিতে অ্যানথ্রপিক বলেছে, এ ডিসটিলেশন প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য অ্যানথ্রপিকের সর্বাধুনিক ‘মিথোস প্রিভিউ’ সক্ষমতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে চীনের গতিকে আরও বাড়ানো।
কোম্পানিটি বলেছে, অভিযানটি আলিবাবা ও আলিবাবার নিজস্ব এআই ল্যাব ‘আলিবাবা কুয়েন’-এর সঙ্গে যোগ থাকা অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি আলিবাবা।
এআই বিষয়ক এক নির্ধারিত শুনানির আগে ১০ জুনের এ চিঠিটি মার্কিন সেনেটের ব্যাংকিং কমিটির চেয়ারম্যান সেনেটর টিম স্কট ও র্যাংকিং মেম্বার এলিজাবেথ ওয়ারেনের কাছে পাঠানো হয়।
এর আগে, এপ্রিলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন বিভিন্ন এআই ল্যাবের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ব্যাপকভাবে চুরির অভিযোগ উঠেছিল।
চিঠিতে অ্যানথ্রপিক বলেছে, এ ধরনের সাইবার আক্রমণ ঠেকাতে মার্কিন সরকারের যে কোনো পদক্ষেপকে তারা দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। যার মধ্যে থ্রেট-ইন্টেলিজেন্স বিনিময় এবং অন্যান্য যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিভিন্ন এআই কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে, ফেব্রুয়ারির এক পোস্টে অ্যানথ্রপিক বলেছিল, তারা চীনের এআই স্টার্টআপ ডিপসিকের সুপরিকল্পিত অভিযান চিহ্নিত করেছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডিপসিকের সাশ্রয়ী মূল্যের এআই মডেলটি পুরো প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়। অ্যানথ্রপিকের দাবি, ক্লড এআই প্ল্যাটফর্ম থেকে অবৈধভাবে সক্ষমতা হাতিয়ে নেওয়ার এ প্রক্রিয়ায় ডিপসিক ছাড়াও চীনের আরও দুটি এআই ল্যাব জড়িত ছিল।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ডিপসিকের অভিযানটিতে এক লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি তথ্যের আদান-প্রদান ঘটেছিল। অন্যদিকে, অপর দুই চীনা ল্যাব ‘মুনশট এআই’-এর ক্ষেত্রে এই মাত্রা ছিল ৩৪ লাখের বেশি ও ‘মিনিম্যাক্স’-এর ক্ষেত্রে ছিল এক কোটি ৩০ লাখেরও বেশি।
ওই সময় অ্যানথ্রপিক সতর্ক করে বলেছিল, এ ধরনের অভিযানগুলোর ‘তীব্রতা ও জটিলতা’ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ হুমকি ঠেকাতে ‘শিল্পের প্রধান প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক ও বৈশ্বিক এআই সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ’ গ্রহণ করা জরুরি।
এদিকে, এ মাসেই চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোম্পানির তালিকায় আলিববাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া এ তকমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে চীনা ই-কমার্স জায়ান্টটি।
মার্কিন আন্তঃসংস্থা সরকারি কমিটি ডিপসিককে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনার পরও দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চীনা কোম্পানিটিকে বাণিজ্য কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি।
রয়টার্স লিখেছে, বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতেই মার্কিন মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপ নিয়েছে।