Published : 17 Mar 2026, 04:35 PM
ইনস্টাগ্রামের ডাইরেক্ট মেসেজ বা ডিএম থেকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধাটি বন্ধ করে দিচ্ছে প্ল্যাটফর্মটির মূল কোম্পানি মেটা।
কোম্পানির সাপোর্ট পেইজের আপডেট অনুসারে, এ বছরের ৮ মে-এর পর থেকে ফিচারটি আর কাজ করবে না।
তবে, ইনস্টাগ্রামে এনক্রিপশন সবার জন্য বা ডিফল্ট হিসেবে কখনোই ছিল যেমন হোয়াটসঅ্যাপে আছে। বরং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা চাইলে আলাদাভাবে প্রতিটি চ্যাটিং থ্রেডের জন্য এ নিরাপত্তা সুবিধাটি চালু করতে পারতেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র বলেছেন, এ ফিচারটির জনপ্রিয়তা কম থাকায় তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
“খুব অল্প সংখ্যক মানুষ ইনস্টাগ্রাম ডিএম-এ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহার করছিলেন। ফলে আগামী মাস থেকে আমরা এ সুবিধাটি সরিয়ে নিচ্ছি। আর, যারা এ নিরাপত্তা চান তারা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।”
মেটার এ বিবৃতিতে মেসেঞ্জারের এনক্রিপশন নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই। বছরের পর বছর কাজ করার পর ২০২৩ সালে মেসেঞ্জারে এ ফিচারটি ডিফল্ট বা স্থায়ীভাবে চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল কোম্পানিটি।
বর্তমানে মেসেঞ্জারের সাপোর্ট পেইজে বলা হয়েছে, তারা ব্যক্তিগত বিভিন্ন মেসেজকে ডিফল্টভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের আওতায় আনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং নিয়ে মেটার দৃষ্টিভঙ্গি বেশ কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে। ২০১৬ সালে তারা হোয়াটসঅ্যাপের আলাপে এনক্রিপশন আনতে শুরু করে।
এরপর ২০১৯ সালে বিভিন্ন অ্যাপকে ‘প্রাইভেসি ফোকাসড’ বা ব্যক্তিগত প্রাইভেসি ধরে রাখার উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন কোম্পানিটির সিইও মার্ক জাকারবার্গ।
ওই সময় তিনি বলেছিলেন, “সব ধরনের ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু করাই সঠিক পদক্ষেপ।”
তবে ২০২১ সালে মেটার নিরাপত্তা প্রধান বলেছেন, আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ফিচার তৈরির লক্ষ্যে তারা নিজেদের এই এনক্রিপশন প্রজেক্টের কাজ ২০২৩ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দিচ্ছে।
মেটার এ এনক্রিপশন ব্যবহারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বেশ কিছু শিশু সুরক্ষা সংস্থার মাধ্যমে বারবার সমালোচিত হয়েছে।
তাদের মতে, এ ফিচারের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা অপরাধীদের ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি নিউ মেক্সিকোতে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত এক মামলার বিচারে এ বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।
ওই মামলার অংশ হিসেবে মেটার কিছু অভ্যন্তরীণ নথি সামনে এসেছে, যেখানে দেখা গেছে, এনক্রিপশনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রাইভেসি ও নিরাপত্তা এ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য ধরে রাখা নিয়ে মেটার নির্বাহী ও গবেষকরা নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করছিলেন।
বিচারের সময় সম্প্রচারিত এক সাক্ষ্যে জাকারবার্গ বলেছেন, মেসেঞ্জারে এনক্রিপশন চালু করতে এত দেরি হওয়ার “অন্যতম প্রধান কারণ” ছিল নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা বিষয়।
“বিষয়টি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। তবে আমি মনে করি, আমাদের ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বেশিরভাগই বিশ্বাস করেন, শক্তিশালী এনক্রিপশন ইতিবাচক এক পদক্ষেপ।”