Published : 29 Apr 2026, 01:41 PM
মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন কোম্পানি গুগল।
এ চুক্তির আওতায় পেন্টাগন এখন থেকে তাদের বিভিন্ন গোপন ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে গুগলের বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল ব্যবহার করতে পারবে।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনফরমেশন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ চুক্তির ফলে পেন্টাগন গুগলের এআই প্রযুক্তিকে ‘যে কোনো বৈধ সরকারি উদ্দেশ্যে’ ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে, যার মাধ্যমে গুগল এখন ওপেনএআই ও ইলন মাস্কের এক্সএআই এর মতো কোম্পানির তালিকায় যোগ হল।
এসব কোম্পানি এরইমধ্যে মার্কিন সরকারের গোপন কাজে এআই মডেল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ।
পেন্টাগনের গোপন নেটওয়ার্কগুলো সংবেদনশীল কাজে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা ও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে অস্ত্র নিক্ষেপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
২০২৫ সালে গুগল, অ্যানথ্রপিক এবং ওপেনএআইয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন এআই কোম্পানির সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি করেছে পেন্টাগন, যার একেকটির মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আগেই উঠে এসেছে, পেন্টাগন এসব কোম্পানির ওপর চাপ দিয়ে আসছিল যাতে তারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযোজ্য কড়া নিয়ম বা বিধিনিষেধ ছাড়াইএআই টুল সরকারি গোপন নেটওয়ার্কে ব্যবহারের সুযোগ দেয়।
নিরাপত্তা ও তদারকি
গুগলের এ চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে, সরকারের অনুরোধ অনুসারে গুগল তাদের এআইয়ের সুরক্ষা ব্যবস্থা ও বিভিন্ন ফিল্টার পরিবর্তন বা সমন্বয় করতে সাহায্য করবে।
চুক্তিতে বিশেষ একটি শর্ত যোগ হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “এআই সিস্টেমটি দেশের ভেতরে গণ-নজরদারি বা মানুষের সরাসরি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পরিচালনার কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়নি এবং এ ধরনের কাজে এআইয়ের ব্যবহার উচিত নয় এ বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত।”
তবে ইনফরমেশন প্রতিবেদনে লিখেছে, এ চুক্তির ফলে সরকার তাদের আইনি ও অপারেশনাল কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুগলের কোনো নিয়ন্ত্রণ বা বাধা দেওয়ার অধিকার থাকবে না।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের নাম বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পরিবর্তন করে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’ বা যুদ্ধ বিভাগ রেখেছেন।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি যুদ্ধ বিভাগ।
গুগল বলেছে, তারা সরকারের বিভিন্ন গোপন ও প্রকাশ্য প্রকল্পের কাজে সব সময়ই সহযোগিতা করে থাকে।
কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেছেন, মানুষের সরাসরি তদারকি ছাড়া ঘরোয়া গণ-নজরদারি বা স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র তৈরির কাজে এআই ব্যবহার করা উচিত নয় এই সর্বজনীন সিদ্ধান্তের প্রতি গুগল এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
“আমাদের ধারণা, গুগল অবকাঠামোর মাধ্যমে আমাদের বাণিজ্যিক বিভিন্ন এআই মডেলের এপিআই অ্যাক্সেস দেওয়া এবং শিল্প-মান ধরে রাখা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দায়িত্বশীল এক পদক্ষেপ।”
পেন্টাগন বলেছে, আমেরিকানদের ওপর গণ-নজরদারি চালানো বা মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া চলে এমন কোনো মারণাস্ত্র তৈরিতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। তবে তারা চায় এআইয়ের ‘যে কোনো বৈধ ব্যবহার’ যেন অনুমোদিত থাকে।
অন্যদিকে, বছরের শুরুতে পেন্টাগনের সঙ্গে মার্কিন এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের দ্বন্দ্ব চলছে। কারণ, কোম্পানিটি তাদের এআই’কে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বা নজরদারির কাজে ব্যবহারের বিরুদ্ধে থাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরিয়ে নিতে রাজি হয়নি।
এ কারণে ক্লড এআই নির্মাতা কোম্পানিটিকে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল মার্কিন যুদ্ধ বিভাগ। তবে এ নিয়ে অ্যানথ্রপিক আদালতে মামলা করলে একজন ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে এ চিহ্নিতকরণ স্থগিত করেছেন।
এপ্রিলে অ্যানথ্রপিকের করা মামলার আপিলও খারিজ করে আদালত। ফলে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে কোম্পানিটির অবস্থা বর্তমানে আইনগতভাবে বিতর্কিত।