Published : 10 Dec 2023, 06:10 PM
মিথেন ও তরল অক্সিজেন চালিত রকেটের সহায়তায় মহাকাশ কক্ষপথে তিনটি স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে চীনা বাণিজ্যিক রকেট কোম্পানি ‘ল্যান্ডস্পেস টেকনোলজি’।
শনিবারের এ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চীনের মহাকাশ বাণিজ্য খাতে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মিশনটি সফল হলে রকেটের সম্ভাব্য জ্বালানী হিসেবে মিথেন ব্যবহার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। পাশাপাশি, উৎক্ষেপণের খরচ কমিয়ে আনা ও আগের চেয়ে কার্যকর উপায়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে এ পদ্ধতি।
বিভিন্ন পরীক্ষামূলক বা বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণের জন্য মুখিয়ে আছে বেশ কিছু চীনা ব্যক্তিমালিকানাধীন স্টার্টআপ কোম্পানি। তাদের লক্ষ্য হল, চীনের উদীয়মান বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতে বাড়তে থাকা চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে নিজস্ব পণ্য প্রস্তুত করা। আর ইলন মাস্কের স্টারলিংকের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানো।
চীনের উত্তরাংশে অবস্থিত ‘ইনার মঙ্গোলিয়া’ অঞ্চল থেকে ‘ঝুক-২ ওয়াই-৩’ নামের রকেটটি উৎক্ষেপিত হয়েছে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ৩৯ মিনিট)।
ল্যান্ডস্পেসের ঝুক-২ রকেটের তৃতীয় উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টার পাশাপাশি সফলভাবে স্যাটেলাইট বহন করা প্রথম উৎক্ষেপণ ছিল এটি।
দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টাটি ঘটেছিল জুলাইয়ে, যার মাধ্যমে মাস্কের স্পেসএক্স ও জেফ বেজোসের ‘ব্লু অরিজিনের’ মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের আগেই বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক রকেট কোম্পানি হিসেবে মিথেন ও তরল অক্সিজেনের মাধ্যমে রকেট উৎক্ষেপণের কৃতিত্ব অর্জন করে চীনা কোম্পানিটি।
ল্যান্ডস্পেস এক বিবৃতিতে বলেছে, এর আগের দুটি উৎক্ষেপণ থেকে প্রমাণ মিলেছে যে, ঝুক-২ বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের জন্য নির্ভরযোগ্য।
কোম্পানিটি আরও বলেছে, স্যাটেলাইট তিনটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪৬০ কিলোমিটার ওপরে অবস্থিত কক্ষপথে গিয়ে পৌঁছেছে। তবে, স্যাটেলাইটের ধরন বা সামগ্রিক ভর সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি ল্যান্ডস্পেস।
বেইজিংভিত্তিক কোম্পানিটির তথ্য অনুসারে, রকেটটি পাঁচশ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে সর্বমোট দেড় মেট্রিক টন পেলোড নিতে সক্ষম। তবে, এর পরবর্তী সংস্করণে পেলোডের মাত্রা বাড়িয়ে চার টনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ল্যান্ডস্পেস।
শনিবার স্যাটেলাইট স্টার্টআপ কোম্পানির এক বিবৃতিতে উঠে আসে, ঝুক-২’র তৃতীয় উৎক্ষেপণে দুটি ৫০ কেজি ভরের পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট বহন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘হংকিং’ নামে পরিচিত এক কোম্পানির প্রযুক্তি।
এক বিবৃতিতে হংকিং বলেছে, রকেটটি তাদের একটি পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইটও বহন করেছে। তবে, এর ভর প্রকাশ করেনি কোম্পানিটি।
এদিকে, ল্যান্ডস্পেস বলেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে কোম্পানির চালানো প্রথম উৎক্ষেপণটি ব্যর্থ হয়েছিল। তবে, ‘ঝুক-২ ওয়াই-১’ নামের ওই মিশনে কোনো স্যাটেলাইট পেলোড হিসেবে ছিল কি না, তা উল্লেখ করেনি কোম্পানিটি।
এ বছরের শুরুতে আট বছর পুরনো স্টার্টআপ কোম্পানিটি আরও বলেছে, ২০২৪ সালে তারা তিনটি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে। আর ২০২৫ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যস্থির করেছে কোম্পনিটি।
আরেক চীনা স্টার্টআপ কোম্পানি ওরিয়েনস্পেস বলেছে, এ মাসেই নিজেদের ‘সলিড-ফুয়েল’ রকেট ‘গ্র্যাভিটি-১’-এর প্রথম উৎক্ষেপণ চালানোর পরিকল্পনা করছে তারা। অন্যদিকে, আগামী বছর মহাকাশ কক্ষপথে নিজেদের প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ চালানোর লক্ষ্যে কেরোসিন জ্বালানীভিত্তিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট ‘নেবুলা-১’ নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে বাণিজ্যিক রকেট কোম্পানি ‘ডিপ ব্লু অ্যারোস্পেস’।
গেল মঙ্গলবার দুটি স্যাটেলাইট’সহ ‘সেরেস-১’ নামের ‘সলিড-প্রোপেলান্ট’ রকেট উৎক্ষেপণ করেছে আরেক চীনা কোম্পানি ‘গ্যালাক্টিক এনার্জি’। তবে, সেপ্টেম্বরে কোম্পানির উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে বেশ কিছু সফল উৎক্ষেপণ চালিয়েছে কোম্পানিটি।