Published : 16 Jan 2026, 12:18 PM
অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পর ৫০ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে বিভিন্ন প্লাটফর্ম।
দেশটির ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ওপর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কেবল এক মাস পরই সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫০ লাখ টিনএজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে বিভিন্ন প্লাটফর্ম।
রয়টার্স লিখেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অ্যাকাউন্ট বন্ধে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, অস্ট্রেলিয়া সরকারের এমন পদক্ষেপ দ্রুত ও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
দেশটির ই-সেইফটি কমিশনার বলেছেন, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া আইনটি মেনে চলতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলেছে প্ল্যাটফর্মগুলো। আইনটি পুরোপুরি চালু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই এসব অ্যাকাউন্ট বন্ধের কার্যক্রম শুরু করেছিল কিছু কোম্পানি।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, এ আইন মেনে চলার জন্য জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম কোম্পানি। আইন অমান্য করলে এসব কোম্পানিকে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। তবে এ আইন শিশু বা তাদের অভিভাবকদের দায়ী করবে না।
বন্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টের এ সংখ্যা প্রাথমিক ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। দেশটির জনসংখ্যা অনুসারে হিসাব করলে দেখা যায়, ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় প্রত্যেক টিনএজারের গড়ে দুটির বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে।
ফেইসবুকের মূল কোম্পানি মেটা বলেছে, নিজেদের ইনস্টাগ্রাম, ফেইসবুক ও থ্রেডস থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নিয়েছে তারা।
অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সর্বনিম্ন বয়সের এ নতুন নিয়মটি মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগলের ইউটিউব, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইলন মাস্কের এক্স ও রেডিটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
তবে, আইনটি মেনে চললেও এ নিষেধাজ্ঞার কারণে অস্ট্রেলিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে রেডিট। আর, অস্ট্রেলিয়ার সরকার আদালতেই এর মোকাবেলা করার কথা বলেছে।
এক বিবৃতিতে কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেছেন, “বিষয়টি স্পষ্ট যে ই-সেইফটির নির্দেশিকা ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ এরইমধ্যে বড় ধরনের ফল দিচ্ছে।”
তিনি বলেছেন, কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট এখনও সক্রিয় থাকতে পারে এবং এখনই পুরোপুরি আইন মেনে চলা নিশ্চিত হয়েছে এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিকভাবে এই আইনের আওতায় থাকা সব কোম্পানি আইনটি মেনে চলার কথা জানিয়েছে।
গ্রান্ট আরও বলেছেন, বয়স যাচাইয়ের কার্যকর বিভিন্ন পদ্ধতি পুরোপুরি চালু হতে সময় লাগবে। তবে থার্ড-পার্টি সফটওয়্যার ভেন্ডরদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, অস্ট্রেলিয়ায় এ প্রক্রিয়াটি বেশ মসৃণভাবে এগোচ্ছে। যার বড় কারণ আইন কার্যকর হওয়ার আগে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বেড়ে যাওয়া।
ডিসেম্বরে আইনটি চালুর আগে বেশ কিছু ছোট ধরনের সামাজিক মাধ্যম অ্যাপ ডাউনলোডের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেইফটি বলেছে, এসব পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করছে তারা। তবে শুরুতে ডাউনলোড বাড়লেও শেষ পর্যন্ত সেগুলোতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দীর্ঘমেয়াদে বাড়েনি।