Published : 27 Apr 2026, 05:38 PM
অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করার পরও দুই-তৃতীয়াংশ টিনএজার এখনও এসব প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে আসা এমন তথ্য অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা আইনটির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
‘মলি রোজ ফাউন্ডেশন’ নামের এক দাতব্য সংগঠনের করা জরিপে দেখা গেছে, গেল ডিসেম্বরে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী যেসব শিশু সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করত তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এখনও এক বা একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারছে।
জরিপ অনুসারে, অংশগ্রহণকারী এক হাজার ৫০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু টিকটক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছে। ফেইসবুক ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো অ্যাপের হিসাব করলে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে দাঁড়ায়।
নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও যেসব শিশু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ বলেছে, এ নিষেধাজ্ঞাকে ফাঁকি দেওয়া খুবই ‘সহজ’।
অন্যদিকে, অর্ধেকেরও বেশি শিশুর ধারণা, এ নিষেধাজ্ঞা তাদের অনলাইন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ পরিবর্তন আনতে পারেনি।
‘মলি রোজ ফাউন্ডেশন’ বলেছে, জরিপের ফলাফল থেকে বোঝা যায়, ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করতে বা সেগুলো সরিয়ে ফেলতে সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলো ব্যর্থ হয়েছে। এ মুহূর্তে যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা হবে ‘বড় ধরনের ঝুঁকি’।
ফাউন্ডেশনটি সতর্ক করে বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার মতো এ নিষেধাজ্ঞা অভিভাবক ও শিশুদের প্রত্যাশিত অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।
সংগঠনটির প্রধান অ্যান্ডি বারোস বলেছেন, “আমাদের জরিপের এসব ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। এখন যুক্তরাজ্য যদি দেশটিকে অনুসরণ করে একই পদক্ষেপ নেয় তবে তা হবে চরম ঝুঁকির।
“যারা এ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে তাদের যুক্তি, এমন পদক্ষেপ দ্রুত ও কঠোরভাবে সমস্যার সমাধান করবে। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক বিভিন্ন প্রমাণ থেকে ইঙ্গিত মেলে, বিষয়টি বরং উল্টো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে দায়মুক্তি দিচ্ছে এবং শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও মঙ্গলের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হচ্ছে।”
গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার ‘ই-সেইফটি কমিশনা’র মেটা, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে তাদের ‘মারাত্মক ঘাটতি’ রয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল, প্ল্যাটফর্মগুলো ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের বারবার বয়স যাচাইয়ের সুযোগ দিচ্ছে যাতে তারা শেষ পর্যন্ত নিজেদের ১৬ বছরের বেশি প্রমাণ করে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে।
বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম অ্যাপের আসক্তি তৈরিকারী ও বিপজ্জনক ডিজাইনগুলো মোকাবিলা করা জরুরি বলে স্বীকার করলেও মলি রোজ ফাউন্ডেশন বলেছে, এই মুহূর্তে কেবল নিষেধাজ্ঞার বদলে এমন কঠোর নীতিমালা প্রয়োজন, যা ‘নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাকে গুরুত্ব দেওয়া ব্যবসায়িক মডেলগুলোর’ মূলে আঘাত করবে।
যুক্তরাজ্য সরকার বর্তমানে শিশুদের সামাজিক মাধ্যমে নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং আসক্তি তৈরিকারী ও বিপজ্জনক ডিজাইনের বিভিন্ন ফিচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
মলি রোজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়ান রাসেল বলেছেন, “প্রমাণিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের সামনে অনলাইন নিরাপত্তায় বিশ্বনেতা হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছেন, যা অভিভাবকরা ন্যায্যভাবেই দাবি করছেন।
“তবে অস্ট্রেলিয়ার মতো তাড়াহুড়ো করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাটা হবে ভুল পদক্ষেপ, যার মাসুল বেশি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার মতো পদক্ষেপ কেবল নিরাপত্তার এক বাহ্যিক ধারণা দিলেও বাস্তবে শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ।”
এ জরিপের ফলাফলের বিষয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি টিকটক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রাম।