১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

স্পেসএক্সের রকেটে কি লাগবে গোলাপি রং?

রকেটের গায়ে থাকা প্রতিটি হিট শিল্ড টাইলে আলাদা স্পনসরশিপ বিক্রি করা যেতে পারে, যাতে ভক্তরা মহাকাশে নিজেদের নাম ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।

স্পেসএক্সের রকেটে কি লাগবে গোলাপি রং?
গোলাপি রঙে এমন দেখতে হবে স্টারশিপ। ছবি: এআই ব্যবহার করে তৈরি

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2026, 06:04 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

পাবলিক কোম্পানি হওয়ার পর প্রথম আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের মুখে পড়তে যাচ্ছে মহাকাশ গবেষণা কোম্পানি স্পেসএক্স। কোম্পানিটির আর্থিক আয় বা এআই ব্যবসার হিসাবের চেয়েও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কৌতূহল এখন রকেটের বাহ্যিক সৌন্দর্য ও গোলাপি রং নিয়ে।

মঙ্গলবার প্রথম ‘আর্নিংস কল’-এর আগে কোম্পানিটির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে খুচরা বিনিয়োগকারীদের এমনই সব বিচিত্র ভাবনার দেখা মিলেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন আরেক কোম্পানি টেসলার পথ অনুসরণ করে নতুন নিবন্ধিত এ রকেট নির্মাতা কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন জমা দেওয়ার জন্য এক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে।

মঙ্গলবারের ওই নির্ধারিত বৈঠকে মাস্ক নিজেই উপস্থিত থাকবেন। প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রশ্ন জমা দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে ভোট দেওয়ারও সুযোগ পাচ্ছেন, যার ভিত্তিতে সর্বাধিক জনপ্রিয় বিভিন্ন প্রশ্নের একটি তালিকা তৈরি হচ্ছে।

মঙ্গলবার আয়োজিত হতে যাওয়া এ বৈঠকের আগে জমা পড়া বিভিন্ন প্রশ্নের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে নাসার ‘আর্টেমিস’ মিশনের জন্য তৈরি ‘স্টারশিপ হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম’-এর আরও নতুন ফুটেজ দেখানোর অনুরোধ।

আগামী বছর এ মহাকাশযানটিতে করেই নভোচারীদের চাঁদে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার।

স্পেসএক্সের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘শিবা ইনু মাসকট অ্যাস্টারয়েড’ নিয়েও আগ্রহ দেখিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ৩৫ ডলারের প্লাশ টয় বা নরম পুতুল হিসেবে বাজারে আসা এ মাসকটটি শিক্ষা, শিশুদের জন্য দাতব্য কার্যক্রম ও প্রচারণামূলক কাজে বড় ভূমিকা রাখতে পারে কি না তা জানতে চেয়েছেন অনেকে। 

অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নের তালিকায় ছিল নতুন স্টারশিপ রকেটটি ঠিক কবে নাগাদ মহাশূন্যের কক্ষপথে জ্বালানি রিফুয়েলিং শুরু করবে, কবে রকেটের বুস্টার এবং ওপরের অংশ দুটিকেই নতুন প্রযুক্তিতে ভাসমান অবস্থায় ধরে ফেলতে পারবে বা রকেটের বাহ্যিক সৌন্দর্য কীভাবে আরও বাড়ানো যায়।

কৌতূহলী এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেছেন, “আমরা কি রকেটটিতে গোলাপি রং করতে পারি?”

অন্যদিকে আরেক বিনিয়োগকারী একটি ব্যবসায়িক পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, রকেটের গায়ে থাকা প্রতিটি হিট শিল্ড টাইলে আলাদা স্পনসরশিপ বিক্রি করা যেতে পারে, যাতে ভক্তরা মহাকাশে নিজেদের নাম পাঠিয়ে দেওয়ার সুযোগ পান।

সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া যুক্তরাস্ট্রের বৃহত্তম আইপিও’তে খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য নিজেদের প্রায় ৩০ শতাংশ শেয়ার বরাদ্দ রেখেছিল স্পেসএক্স। শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত হওয়ার পরই কোম্পানিটি নিয়ে এমন বিচিত্র প্রশ্নের মিশ্রণ দেখা গেল।

শেয়ারবাজারে প্রবেশের পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছালেও পরবর্তীতে এর দর অর্ধেকেরও বেশি পড়ে যায়। এরপরও কোম্পানির সার্বিক ব্যবসায়িক পূর্বাভাস বা আর্থিক হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি।

যেসব প্রশ্ন সামান্য সমর্থন পেয়েছে, সেগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতেও আর্থিক বিষয়ের চেয়ে বরং কক্ষপথে ‘এআই ডেটা সেন্টার’ পাঠানোর সময়ের মতো বিভিন্ন বিষয়ই প্রাধান্য পেয়েছে।

শুক্রবার বিকেলের হিসাব অনুসারে, স্পেসএক্সের এআই ব্যবসা ঠিক কবে থেকে নিজস্ব আয় দিয়ে পরিচালিত হতে পারবে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তালিকায় ১৮৩ নম্বরে অবস্থান করছিল।

গেল সপ্তাহের বুধবার মাস্কের আরেক কোম্পানি টেসলা নিজেদের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই সময় বিনিয়োগকারীরা মাস্ককে স্পেসএক্সের সঙ্গে সম্ভাব্য মর্জার নিয়ে বারবার প্রশ্ন করেছেন। সেখানে এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি প্রশ্ন ১০০টিরও বেশি ভোট পেয়েছে।

তবে স্পেসএক্সের ফোরামে বিষয়টি একেবারেই পাত্তা পায়নি। শুক্রবার সকালে সম্ভাব্য মার্জার সম্পর্কিত প্রশ্নটি কেবল একবার দেখা যায় এবং এতে কেবল একটিমাত্র ভোট পড়েছে।

এর ঠিক আগের দিনই মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ প্রতিবেদনে লিখেছিল, সম্ভাব্য মার্জারের আগেই টেসলার চীনভিত্তিক ব্যবসাকে আলাদা করার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে এ প্রতিবেদনটি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মাস্ক।

বেশিরভাগ খুচরা বিনিয়োগকারী স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হলেও একজন ব্যবহারকারী মাস্কের দীর্ঘমেয়াদি দূরদৃষ্টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

মাস্ক আগে মন্তব্য বলেছিলেন, এআই ও রোবোটিক্সের অভূতপূর্ব অগ্রগতি ভবিষ্যতে এমন এক প্রাচুর্যের পৃথিবী তৈরি করবে, যেখানে পণ্য ও সেবার দাম এতটাই কমে যাবে যে অর্থের গুরুত্বই হারিয়ে যেতে পারে।

কোম্পানির প্রথম ত্রৈমাসিক ফলাফল প্রকাশের কেবল চার দিন বাকি থাকা অবস্থায় সেই বিনিয়োগকারী প্রশ্ন করছেন, “মাস্ক সম্প্রতি যেমনটা বলেছেন যে ১০ বছরের মধ্যে অর্থের কোনো মূল্যই থাকবে না... তাহলে মানুষ কেন আরও শেয়ার কিনবে ও অর্থ বিনিয়োগ করবে?”

আইপিও তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এ প্রশ্নটির সমর্থনে শুক্রবার পর্যন্ত কোনো ভোট পড়েনি।