Published : 21 Feb 2026, 03:08 PM
শিশুদের সুরক্ষার তুলনায় ব্যবহারকারীর প্রাইভেসিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগে অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল।
বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল জেবি ম্যাককাস্কির দায়ের করা এ মামলায় অ্যাপলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানিটির আইক্লাইড সেবাটি শিশু পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর বড় এক মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তার চেয়ে ব্যবহারকারীর প্রাইভেসিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে অ্যাপল। কোম্পানিটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগেও আইক্লাইডকে শিশু পর্নোগ্রাফি বিতরণের জন্য ‘সবচেয়ে বড় মাধ্যম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ম্যাককাস্কি।
অ্যাটর্নি জেনারেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এসব ছবি কোনো শিশুর ট্রমার স্থায়ী রেকর্ড। যতবার এসব ছবি দেখা বা শেয়ার হয় ততবারই মানসিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে শিশুটি।”
কোনো সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে আইক্লাউডে শিশু যৌন নিপীড়নের কনটেন্ট ছড়ানো নিয়ে অ্যাপলের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম মামলা।
এক বিবৃতিতে অ্যাপল বলেছে, শিশুদের নগ্ন ছবি আপলোড করা ঠেকাবে এমন সব ফিচার যোগ করেছে তারা। শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম বজায় রাখতে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন হুমকি ঠেকাতে তারা প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছে।
“আমাদের সব আধুনিক প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ও ‘কমিউনিকেশন সেইফটি’ ফিচার ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও প্রাইভেসিকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি। মেসেজ, শেয়ার করা ফটো, এয়ারড্রপ, লাইভ ফেইসটাইম কলে নগ্নতা শনাক্ত হলে এ প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাধা দেয়।”
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার অ্যাপল বলেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ফিচার চালু করবে তারা। নতুন এ ‘রিপোর্ট টু অ্যাপল’ ফিচারের মাধ্যমে সরাসরি অ্যাপলের কাছে কোনো আপত্তিকর কনটেন্ট সম্পর্কে রিপোর্ট করতে পারবেন ব্যবহারকারী।
এ সুবিধাটি এরইমধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যে চালু আছে। অ্যাপল স্পষ্ট করে বলেছে, এ পদক্ষেপটি আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল এবং তা ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মামলার প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়নি।
স্মার্টফোন ও সামাজিক মাধ্যম শিশুদের কতটা ক্ষতি করছে তা নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক জনসচেতনতা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
এ পর্যন্ত এ ধরনের আইনি লড়াই ও জনরোষের মূল লক্ষ্য ছিল ফেইসবুকের মূল কোম্পানি মেটা, স্ন্যাপ ও গুগলের মালিকানাধীন কোম্পানি ইউটিউবের মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। এতদিন এ ধরনের তদন্তের বাইরে ছিল অ্যাপল।
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার এ মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু অ্যাপলের ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির কারণে ডিজিটাল বিভিন্ন তথ্য এমনভাবে সুরক্ষিত থাকে, যা অ্যাপল বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কেউই দেখতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যটির অভিযোগ, ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ প্রযুক্তির আড়ালেই অ্যাপলের প্ল্যাটফর্মে শিশু নিপীড়নের কনটেন্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
কয়েক দশক ধরে প্রযুক্তিবিদ ও প্রাইভেসিপন্থীদের মধ্যে এ এনক্রিপশন নিয়ে বিতর্ক চলছে। সমর্থকদের মতে, ব্যক্তিগত প্রাইভেসি রক্ষা ও ডিজিটাল নজরদারি এড়াতে এটি জরুরি।
অন্যদিকে, বিভিন্ন সরকারের দাবি, এ প্রযুক্তির কারণে অপরাধী শনাক্ত করা বা তদন্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, অ্যাপল একসময় ব্যবহারকারীদের ছবি স্ক্যানিংয়ের কথা ‘ভেবেছিল’। তবে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও সরকারি অপব্যবহার, যেমন সেন্সরশিপ বা রাজনৈতিক গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় সেই পরিকল্পনা থেকে পরে পিছিয়ে আসে কোম্পানিটি।
অ্যাপলের দুই কর্মীর মধ্যকার এক টেক্সট মেসেজের উদ্ধৃতি দিয়ে ম্যাককাস্কির অফিস বলেছে, অ্যাপলের তৎকালীন অ্যান্টি ফ্রড প্রতারণা বিরোধী প্রধান বলেছিলেন, প্রাইভেসিকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়ার কারণে বর্তমানে ‘শিশু পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর সবচেয়ে বড় মাধ্যমে’ পরিণত হয়েছে অ্যাপল।
মেসন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে দায়ের করা এ মামলায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিচারকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, তিনি যেন অ্যাপলকে তাদের পণ্যের ডিজাইন আরও নিরাপদ এবং আপত্তিকর কনটেন্ট শনাক্তে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেন।
গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট, মাইক্রোসফট ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের আপলোড করা ছবি বা ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট নিয়মিত পরীক্ষা করে।
কোনো ছবি শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে কি না তা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন’ ও অন্যান্য সংস্থার দেওয়া বিশেষ এক ডেটাবেইসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে এসব কোম্পানি।