Published : 22 Mar 2026, 01:15 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্রমাগত ব্যবহারের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এর বিদ্যুতের চাহিদা। ডেটা সেন্টার বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করে, যা সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে, সাম্প্রতিক এক গবেষণা এ ধারণা বদলে দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে হওয়া সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বিভিন্ন ডেটা সেন্টার এদের জরুরি কাজ ব্যাহত না করেই বিদ্যুতের চাহিদা প্রয়োজন অনুসারে কমিয়ে বা বাড়িয়ে নিতে পারে, যা বিভিন্ন ডেটা সেন্টারের বর্তমান পদ্ধতির ঠিক উল্টো। কারণ এখনকার এসব সেন্টার সবসময় একইভাবে বিদ্যুৎ খরচ করে, যা বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ তৈরির পাশাপাশি সবার জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেয়।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ দিনব্যাপী এক পরীক্ষায় লন্ডনের একটি ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সক্ষমতা যাচাই করেছেন গবেষকরা। এ সময়ের মধ্যে ২০০ বারেরও বেশি কৃত্রিম ‘গ্রিড ইভেন্ট’ বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
পরীক্ষাটিতে ‘এমারেল্ড এআই’-এর সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়। এ গবেষণার সঙ্গে রয়েছে এনভিডিয়া, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল গ্রিড, ‘নেবিয়াস’ ও অলাভজনক সংস্থা ‘ইলেকট্রিক পাওয়ার রিসার্চ ইনস্টিটিউট’।
প্রতিটি কৃত্রিম পরিস্থিতিতেই ডেটা সেন্টারটি সফলভাবে এর বিদ্যুৎ খরচ চাহিদামতো কমিয়ে আনতে পেরেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বাঁচিয়েছে সেন্টারটি।
ফুটবল ম্যাচের বিরতির সময় বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে ডেটা সেন্টারটি সফলভাবে সাড়া দিয়েছে। একটি ক্ষেত্রে, টানা ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ ১০ শতাংশ কমিয়ে রেখেছে সেন্টারটি। আবার খুব দ্রুত গতিতেও তা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করেছে। কেবল ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে সেন্টারটি এর ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ খরচ কমিয়েছে।
গবেষণাটি এনভিডিয়া’র ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ‘পাওয়ার ফ্লেক্সিবল এআই ফ্যাক্টরি’ তৈরির মডেল বা ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে কাজ করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াতে তৈরির পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি।
এনভিডিয়া’র টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক প্রধান জশ পার্কার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এ পরীক্ষায় প্রমাণ মিলেছে, এনভিডিয়াচালিত অবকাঠামো বিদ্যুৎ গ্রিডের অবস্থা বুঝে রিয়াল টাইমে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এআইয়ের বিভিন্ন কাজকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উপযোগী করার মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজেক্টের কাজ দ্রুত করতে এবং গ্রিড সংস্কারের পেছনে হওয়া বিশাল খরচও কমিয়ে আনতে পারব।”
এ গবেষণার সঙ্গে থাকা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য এআই শিল্প, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ভাগ করে নেব তারা, যাতে এ খাতের কর্মপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা যায়।
ডেটা সেন্টার পরিচালকদের কেবল ‘পরোপকারী’ বা দয়ালু হওয়ার ওপর আমাদের ভরসা করতে হবে না। কারণ, বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ব্যবহার কমিয়ে রাখা তাদের নিজেদের ব্যবসার জন্যও লাভজনক হতে পারে। ফলে নতুন ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমোদনও অনেক দ্রুত পাওয়া সম্ভব।
‘ন্যাশনাল গ্রিড পার্টনার্স’-এর প্রেসিডেন্ট স্টিভ স্মিথ ব্লুমবার্গকে বলেছেন, “আমরা চাই গ্রাহকরা যেন দুই বছরের মধ্যেই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এ পরীক্ষাটি সেই লক্ষ্য পূরণেরই অংশ।”