Published : 31 Dec 2025, 01:15 PM
আধুনিক পোর্টেবল প্রযুক্তির অপরিহার্য অংশ চার্জিং। অ্যাপলের মতো নামী দামী কোম্পানির আইপ্যাডও ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া থেকে রেহাই পায়নি। চার্জ হতে সাধারণত কিছুটা সময় লাগেই। তবে চাইলে আইপ্যাড চার্জ হওয়ার গতি কিছুটা বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব।
সাধারণ আইপ্যাডের সঙ্গে সাধারণত ২০ ওয়াটের চার্জার থাকে, যা মোটামুটি দ্রুতই চার্জ করে। তবে কেউ যদি এর চেয়ে বেশি ওয়াটের অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করেন তবে স্বাভাবিকভাবেই ডিভাইসটি আগের তুলনায় দ্রুত চার্জ হবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
তবে আইপ্যাড দ্রুত চার্জ করার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রথমত, চার্জিং অ্যাডাপ্টারের দাম বেশ চড়া হতে পারে, বিশেষ করে সরাসরি অ্যাপল থেকে কিনতে গেলে এগুলোর দাম ১০০ ডলার পর্যন্ত হয়।
দ্বিতীয়ত, বেশি ওয়াটের চার্জার ব্যবহার করলেই যে চার্জিংয়ের গতি সবসময় বাড়বে এর নিশ্চয়তা নেই। আইপ্যাডের মডেলভেদে এর সর্বোচ্চ চার্জ গ্রহণের সক্ষমতা ২০ থেকে ৩০ ওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, অর্থাৎ একটি আইপ্যাডের যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই চার্জ গ্রহণ করবে।
এ কারণে অ্যাপলের সবচেয়ে শক্তিশালী ১৪০ ওয়াটের অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলেও তা ৩৫ ওয়াটের অ্যাডাপ্টারের মতোই গতি দেবে। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ওয়াটের চার্জার ব্যবহার করলেও বাড়তি কোনো লাভ নেই।
তবে যেসব আইপ্যাডে ‘ফাস্ট চার্জিং’ সুবিধা রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। সে ক্ষেত্রে ৬০ ওয়াট বা তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী অ্যাডাপ্টারের প্রয়োজন হয়।
অবশ্য আইপ্যাড চার্জ হওয়ার গতি কেবল কোন অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করছেন তার ওপরই নির্ভর করে না, বরং ডিভাইসের ধরন, কোন কোন সেটিংস চালু করে রাখা আছে ও ব্যবহারের অভ্যাসের ওপরও অনেকটা নির্ভর করে। অন্যান্য উপায় জেনে নেওয়া যাক–
আইপ্যাডের জন্য নতুন কোনো ইউএসবি-সি অ্যাডাপ্টার কিনতে না চাইলে চার্জিংয়ের গতি বাড়ানোর জন্য আরও কিছু ছোটখাটো কৌশল রয়েছে।
প্রথমত, চার্জ হওয়ার সময় আইপ্যাড ব্যবহার করবেন না। এতে ব্যাটারি খরচ হওয়ার সুযোগ পায় না ফলে তা দ্রুত চার্জ হয় ও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পায়।
ডিভাইসটি চার্জিংয়ের সময় ভারী বা মোটা কেইস খুলে রাখা উচিত। বড় ও মোটা বিভিন্ন কেইস তাপ আটকে রাখে, যা আইপ্যাডকে গরম করে ও চার্জিংয়ের গতি কমিয়ে দেয়। ডিভাইসটিকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে চার্জিং অনেক সহজ ও দ্রুত হয়।
এ ছাড়া আইপ্যাডের ভেতরে কিছু সেটিং পরিবর্তন করেও চার্জিংয়ের গতি বাড়ানো সম্ভব। ওয়াইফাই, ব্লুটুথ বন্ধ রাখা ও স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে দেওয়া বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সাহায্য করে। একইভাবে লোকেশন সার্ভিস বন্ধ রাখলেও ব্যাটারি সাশ্রয় হয়।
আইপ্যাডের সেটিংসে গিয়ে ‘লো পাওয়ার মোড’ চালু করলে ডিভাইসটি অনেক কম শক্তি খরচ করবে। কারণ তা ব্যাকগ্রাউন্ডের অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজ বন্ধ করে দেয়।
এ ছাড়া আইপ্যাডের মডেলে ‘অপটিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং’ অপশনটি থাকলে তা অবশ্যই চালু রাখা উচিত। অপশনটি ব্যবহারকারীর চার্জিংয়ের অভ্যাস বুঝে ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ কমায় ও ব্যাটারিকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
নতুন বা পুরনো যে কোনো আইপ্যাড কেনার আগে অনেক কিছুই জানার থাকতে পারে। তবে এর মধ্যে সঠিক চার্জিং অভ্যাস গড়ে তোলা সবচাইতে জরুরি। নতুন অ্যাডাপ্টার কিনুন বা না কিনুন, আইপ্যাড দ্রুত ও কার্যকরভাবে চার্জিংয়ের বিভিন্ন উপায় জেনে রাখা লাভজনক।
এতে ব্যবহারকারীর সময় বাঁচবে ও খরচ কমবে এবং প্রিয় ডিভাইসটির ব্যাটারিও দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।