১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘দুর্ঘটনায়’ স্পেসএক্সের স্টারশিপ, এখনই উৎক্ষেপণ নয়

উৎক্ষেপণের পর রকেটের দ্বিতীয় অংশটি সফলভাবে ভারত মহাসাগরে অবতরণ করলেও মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে।

‘দুর্ঘটনায়’ স্পেসএক্সের স্টারশিপ, এখনই উৎক্ষেপণ নয়
রকেটের প্রথম অংশ, অর্থাৎ ‘সুপার হেভি বুস্টার’ মেক্সিকো উপসাগরে অবতরণের সময় এতে বড় এক গোলযোগ দেখা দেয়। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 May 2026, 12:00 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:43 PM

পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় স্পেসএক্সের তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রকেট স্টারশিপের পরবর্তী সব উৎক্ষেপণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

গেল ২২ মে টেক্সাসে স্পেসএক্সের স্টারবেইস কেন্দ্র থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ রকেটটি উৎক্ষেপিত হয়েছে।

উৎক্ষেপণের পর রকেটের দ্বিতীয় অংশটি সফলভাবে ভারত মহাসাগরে অবতরণ করলেও মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা এফএএ পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

রকেটের প্রথম অংশ, অর্থাৎ ‘সুপার হেভি বুস্টার’ মেক্সিকো উপসাগরে অবতরণের সময় এতে বড় এক গোলযোগ দেখা দেয়।

অবতরণের শেষ মুহূর্তে বুস্টারটির ৩৩টি ইঞ্জিনের মধ্যে কেবল একটি ইঞ্জিন সচল ছিল। ফলে ৭২ মিটার বা ২৩৬ ফুট দীর্ঘ রকেটটি প্রচণ্ড গতিতে পানির ওপর আছড়ে পড়ে।

রকেটের তীব্র এই আছাড় বা ধাক্কাকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে বিবেচনা করেছে এফএএ। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “২২ মে স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ ফ্লাইট ১২’ উৎক্ষেপণটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।”

নিয়ম অনুসারে, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্টারশিপ রকেটের আর কোনো নতুন উৎক্ষেপণ করা যাবে না।

এফএএ বলেছে, “স্টারশিপ সুপার হেভি রকেটের পুনরায় উৎক্ষেপণ তখনই সম্ভব হবে যখন আমরা নিশ্চিত হব যে, এ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো সিস্টেম, প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নয়।”

স্টারশিপ রকেটের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশকে যখন উৎক্ষেপণ প্যাডে একে অপরের ওপর পুরোপুরি বসানো হয় তখন এর উচ্চতা দাঁড়ায় ১২৪ মিটারেরও বেশি, যা নাসার সুপরিচিত ‘স্যাটার্ন ভি’ রকেটের চেয়েও ১০ মিটার বেশি লম্বা।

অ্যাপোলো মিশনের সময় নভোচারীদের চাঁদে নিয়ে যেতে এ স্যাটার্ন ভি রকেট ব্যবহার করেছিল নাসা।

নাসার ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও মানুষকে চাঁদের মাটিতে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে স্পেসএক্স।

তবে রকেটটির উন্নয়ন কাজে দেরি হওয়ার কারণে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা তাদের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

চাঁদে মানুষের আবারও যাওয়ার মিশনটি প্রথমে ২০২৪ সালের জন্য নির্ধারিত থাকলেও বর্তমানে তা পিছিয়ে ২০২৮ সালে নির্ধারণ করেছে নাসা।

এ দেরির অন্যতম প্রধান কারণ স্টারশিপ ও এর চাঁদে অবতরণ ব্যবস্থা বা ‘লুনার ল্যান্ডিং সিস্টেম’ পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ রকেট তৈরির পেছনে থাকা প্রযুক্তিকে ‘ভিনগ্রহের স্তরের প্রযুক্তি’ হিসেবে বর্ণণা করেছেন স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক।

এ দুর্ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে স্পেসএক্সকে যেসব সংশোধনী পদক্ষেপ নিতে হবে সেগুলো পরবর্তী স্টারশিপ উৎক্ষেপণের আগে অবশ্যই এফএএ-এর মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে।