Published : 15 Dec 2025, 10:34 AM
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ভায়াগ্রা নামের ছোট নীল রঙের এক বড়ি ব্যবহার করে নিজেদের যৌন সক্ষমতা বাড়িয়ে আসছেন অসংখ্য পুরুষ। এ ওষুধের সাফল্যের ফলে দশকের পর দশক ধরে শত শত কোটি ডলার আয় করেছে ওষুধটির উৎপাদক ফাইজার।
এবার নারীদের জন্য সুখবর এসেছে। নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বায়োটেক প্রতিষ্ঠান ‘ডারে বায়োসায়েন্স’-এর বিজ্ঞানীরা প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের জন্য এমন এক ক্রিম তৈরি করেছেন, যা ১০ মিনিটের মধ্যেই কাজ করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।
এর দাম পড়বে ১০ ডলার।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক কোম্পানিটি বলেছে, ‘ডেয়ার টু প্লে’ নামের এই অভিনব ক্রিমটি নারী দেহের প্রয়োজনীয় অংশে রক্তসঞ্চালন বাড়াবে এবং ঘনিষ্টতার জন্য নারী শরীরকে প্রস্তুত করবে। তাদের দাবি, প্রায় দুই কোটি নারী এ ধরনের অনুভূতির ঘাটতিতে ভুগছেন।
এ ক্রিমটিতে ‘সিলডেনাফিল’ ব্যবহৃত হয়েছে, যা পুরুষদের বড়ি ভায়াগ্রারও মূল উপাদান। ফলে ভায়াগ্রা যেভাবে পুরুষদের বেলায় কাজ করে, এই ক্রিমটি তেমনই নারীদের ক্ষেত্রেও যোনিতে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রভাব তৈরি করবে।
প্রতিষ্ঠানটির সিইও সাব্রিনা মার্তুচ্চি জনসন বলেছেন, “১৯৯৮ সালে ভায়াগ্রা অনুমোদন পাওয়ার পর তা পুরুষদের যৌন নিস্তেজতার চিকিৎসায় বিপ্লব এনেছিল। তবে নারীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক যৌন উত্তেজনা বাড়ানোর মতো সমমানের অগ্রগতি প্রায় তিন দশক ধরে থমকে ছিল।
“আমাদের বিশ্বাস ‘ডেয়ার টু প্লে’ বহুদিনের এই ঘাটতি পূরণ করেছে। বৈজ্ঞানিক সমাধানের মাধ্যমে এ ক্রিম নারীদেরকে শারীরিক আনন্দ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নতুন করে যোগ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। ফলে অবশেষে নারীদের চাহিদাও গুরুত্ব পেল।”
কীভাবে কাজ করে ‘ডেয়ার টু প্লে’?
ডারে বায়োসায়েন্স বলেছে, ক্রিমটি শারীরিক ঘনিষ্টতার ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে ব্যবহার করতে হবে এবং দিনে একবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়।
ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় উঠে এসেছে, ‘প্লাসিবো’র তুলনায় এই ক্রিম ব্যবহারে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
লাইসেন্সধারী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি অঙ্গরাজ্যে এই ক্রিমটি প্রি অর্ডার করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ১০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রয়েছে কানেকটিকাট, ফ্লোরিডা, ইনডিয়ানা, মিসৌরি, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউ জার্সি, অরিগন, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড ও ইউটাহ।
ডারে বায়োসায়েন্স বলেছে, ক্রিমটি চলতি ডিসেম্বর বা ২০২৬ সালের শুরুতে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও পাওয়া যাবে।
মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ থেকে ক্রিমটির অনুমোদন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি। তারা বলেছে, ক্রিমটির কার্যকারিতা এরইমধ্যে টক্সিকোলজি স্টাডি, একাধিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও পিয়ার-রিভিউড গবেষণার মাধ্যমে সমর্থিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অন্যান্য উত্তেজনা বৃদ্ধিকারী বিভিন্ন পণ্যে কঠোর মান, উৎপাদন, পরীক্ষা সংক্রান্ত মানদণ্ড প্রযোজ্য নয় এবং সেগুলো স্পষ্ট মান বা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়াই বিক্রি হয়।
ক্রিমটি ‘সেকশন ৫০৩বি’ কম্পাউন্ডেড পণ্য বা বিশেষ এক ধরনের ওষুধ, যা নির্দিষ্ট লাইসেন্সপ্রাপ্ত সুবিধায় প্রস্তুত হয় তেমন হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। এসব কম্পাউন্ডেড পণ্য এমন এক কারখানায় তৈরি, যা এফডিএ পরিদর্শনের আওতাধীন।
তবে কম্পাউন্ডেড ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বা মান যাচাই করে না এফডিএ।