Published : 24 Jun 2026, 11:39 AM
আইনি ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। ইংল্যান্ডের এক আদালতে প্রথমবারের মতো কোনো মানব আইনজীবী ছাড়াই সব প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলায় জয় পেয়েছে এআই চালিত এক ল’ ফার্ম।
একজন ফ্রিল্যান্স এইচআর কনসালট্যান্টের বকেয়া অর্থ আদায়ের এ মামলাটি যেমন সাধারণ মানুষের জন্য আইনি লড়াইয়ের খরচ বহুগুণে কমিয়ে আনার নতুন দুয়ার খুলেছে তেমনই আইনি পেশার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
তামিরেস কামাল তাকিদির নামের একজন ফ্রিল্যান্স এইচআর কনসালট্যান্ট নিজের ৭ হাজার পাউন্ডের বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য ‘গারফিল্ড এআই’ নামের এক আইনি কোম্পানিটিকে প্রায় ৪০০ পাউন্ড ফি দিয়েছেন। এ ফি’র বিনিময়ে এআই ফার্মটি প্রথমে এক আইনি নোটিশ পাঠায় এবং পরবর্তীতে আদালতের দ্বারস্থ হয়।
এআইয়ের মাধ্যমে আদালতে মামলা জয়ের বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন গারফিল্ড-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফিলিপ ইয়ং।
তিনি বলেছেন, আইনি লড়াইয়ের খরচ অনেক সময় পাওনা অর্থের চেয়েও বেশি হয়ে যায়। ফলে অনেক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তাদের বকেয়া পাওনা মওকুফ করে দিতে হত।
গেল বছরের এপ্রিলে ‘সলিসিটরস রেগুলেশন অথরিটি’ থেকে অনুমোদন পাওয়া গারফিল্ড ৩০ পাউন্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পাওনা দাবির মামলা পরিচালনা করে।
এ মামলায় এআই সিস্টেমটি আদালতের শুনানির আগের যাবতীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুত এবং পরবর্তীতে আদালতে মক্কেলের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য একজন মানব ব্যারিস্টার নিয়োগ করেছে।
বিচার শুরুর আগের সব জটিল আইনি কাজ এআই একাই সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে বিবাদী পক্ষের, অর্থাৎ যারা নিজেদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করেছিল তাদের পাল্টা দাবির আইনি জবাব প্রস্তুত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৪ মে ওয়ান্ডসওয়ার্থ কাউন্টি কোর্টে অনুষ্ঠিত তিন ঘণ্টার বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য এআই সিস্টেমটি চারজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের এক সম্পূর্ণ বান্ডিল প্রস্তুত করেছিল। আদালত শেষ পর্যন্ত তাকিদিরের পক্ষে রায় ও তার বকেয়া অর্থ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তাকিদির বলেছেন, “আমি যে কাজ করেছিলাম তার পারিশ্রমিক পাচ্ছিলাম না। তবে অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়াটি আমার কাছে মানসিক চাপ, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ মনে হচ্ছিল। গারফিল্ড আমার জন্য এ দাবিটি তুলে ধরে মামলাটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব করেছে।
“বিবাদী পক্ষ যখন পাল্টা দাবি উত্থাপন করেছিল তখন আমাকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই তারা সেটি করেছিল। কিন্তু আমি জানতাম আমার পাশে এমন এক আইনি সহায়তা রয়েছে, যা সহজেই গ্রহণ করা যায়, সাশ্রয়ী ও কার্যকর।”
আদালতে তাকিদিরের পক্ষে লড়া ব্যারিস্টার ডমিনিক লি বলেছেন, গারফিল্ড তাদের মক্কেলের মামলাটি ‘স্পষ্ট ও সুচারুভাবে’ উপস্থাপন করেছিল।
“তবে আদালতের শুনানিতে সওয়াল-জবাব বা যুক্তি উপস্থাপনের বিষয়টি এখনও অপরিহার্য ও তা মানুষেরই কাজ।”
এদিকে ব্রিটিশ আইন অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বড় ধরনের ‘এআই বিভ্রাট’ বা ভুলের ঘটনাও আলোড়ন তৈরি করেছে।
গেল মাসেই ‘পিনসেন্ট ম্যাসনস’ নামের এক আন্তর্জাতিক ল’ ফার্ম তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ এআই সিস্টেমের ভুল সার্চ রেজাল্টের ওপর ভিত্তি করে আদালতে দুবার বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছে।
পরবর্তীতে তারা নিজেরাই বিষয়টি ‘সলিসিটরস রেগুলেশন অথরিটি’কে অবহিত করে।